আজওয়া খেজুর বিশ্বের অন্যতম সুপরিচিত এবং মূল্যবান খেজুর। এটি সৌদি আরবের মদিনা (Madinah) অঞ্চলে বিশেষভাবে উৎপন্ন হয়।
তবে, বাজারে অনেক ধরনের খেজুর পাওয়া যায়, যার মধ্যে কিছু খেজুরকে আজওয়া বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। এজন্য বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য আসল আজওয়া চেনার পদ্ধতি এবং অন্যান্য খেজুরের সঙ্গে এর পার্থক্য জানা জরুরি।
চেহারা ও গঠন দেখে চেনার উপায়
আসল আজওয়া খেজুর দেখতে গাঢ় কালো এবং এর বাইরের অংশ হালকা ভাঁজযুক্ত ও কিছুটা রুক্ষ হয়। এটি খুব বেশি চকচকে বা তেলতেলে নয়, বরং স্বাভাবিকভাবে শুকনো হয়। অন্যদিকে, অনেক খেজুরে অতিরিক্ত তেল বা গ্লুকোজ লাগিয়ে চকচকে করা হয়, যা নকল আজওয়া হতে পারে।
আজওয়া খেজুর সাধারণত ছোট থেকে মাঝারি আকারের হয় এবং এটি গোলাকার ও কিছুটা চাপা প্রকৃতির। অন্যান্য খেজুর যেমন মাবরুম বা মেডজুল তুলনামূলকভাবে লম্বাটে এবং বড় হয়।
-
আসল আজওয়া খেজুরের বিশেষ চিহ্ন হলো এর সূক্ষ্ম সাদা রেখা, যা খেজুরের এক পাশের নিচের দিকে দেখা যায়। এই সাদা রেখাগুলো এমন দেখায় যেন খেজুর শুকিয়ে ফেটে গেছে, যদিও এটি আসলে শুকিয়ে যায়নি।
-
এই সূক্ষ্ম সাদা লাইনগুলো নকল ও আসল আজওয়া খেজুরের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি করে। সাধারণ খেজুরের ক্ষেত্রে এই সাদা রেখা দেখা যায় না।
-
আসল আজওয়া খেজুর দেখতে গাঢ় কালো ও কিছুটা ম্যাট ফিনিশযুক্ত। এটি খুব বেশি চকচকে নয়।
-
নকল আজওয়া খেজুর সাধারণত বেশি চকচকে ও তেলতেলে হয়। এতে কৃত্রিম মোম বা তেল লাগানো হতে পারে, যা আসল আজওয়ার ক্ষেত্রে থাকে না।
-
আসলটির বাইরের অংশ সামান্য কোঁকড়ানো বা হালকা ভাঁজযুক্ত থাকে। কিন্তু নকলগুলো অনেক সময় খুব বেশি মসৃণ বা অনিয়মিত দেখায়।
-
আসল খেজুর পানিতে ভিজালে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা নরম হয়। নকলটি রাসায়নিক রঙ ব্যবহার করা হলে, পানিতে ভিজালে রঙ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
স্বাদ ও গন্ধের পার্থক্য
আসল আজওয়া খেজুরের স্বাদ মৃদু মিষ্টি এবং এতে লিকোরিস বা কফির মতো হালকা ঝাঁঝ থাকে। এটি অতিরিক্ত চিনি-যুক্ত নয়, যা অন্যান্য মিষ্টি খেজুরের মতো নয়।
আসল আজওয়া খেজুরের কোনো কৃত্রিম সুগন্ধ থাকে না। যদি খেজুরে অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে বা অতিরিক্ত মিষ্টি মনে হয়, তবে এটি আসল নাও হতে পারে।
-
আসলটির স্বাদ হালকা মিষ্টি এবং লিকোরিস বা কফির মতো ঝাঁঝযুক্ত।
-
নকল আজওয়া খেজুরের স্বাদ অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনি মেশানো মনে হতে পারে।
-
আসল খেজুরের কোনো কৃত্রিম গন্ধ থাকে না। যদি খেজুরে কোনো কৃত্রিম সুগন্ধি থাকে, তবে এটি নকল হতে পারে।
বীজের গঠন
আজওয়া খেজুরের বীজ ছোট, মসৃণ এবং গোলাকৃতি হয়। এটি খুব সহজেই খেজুরের মাংস থেকে আলাদা করা যায়। অন্য খেজুরের তুলনায় এর বীজ অনেক কম জায়গা নেয়, তাই আজওয়া খেজুর বেশি মাংসল হয়।
-
আসল খেজুরের বীজ ছোট, মসৃণ এবং তুলনামূলকভাবে কম জায়গা দখল করে।
-
নকল খেজুরের বীজ বড় হতে পারে এবং খেজুরের মাংসের সঙ্গে লেগে থাকতে পারে।
পুষ্টিগুণের পার্থক্য
আজওয়া খেজুরে ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও সুক্রোজ রয়েছে, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি দেয়।এটি ফ্রি-র্যাডিক্যাল প্রতিরোধ করে এবং হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে। আজওয়া খেজুরে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে। অন্যান্য খেজুরেও পুষ্টিগুণ থাকে, তবে আজওয়া খেজুরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিনের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি।