ত্বকের শুষ্কতা ও রুক্ষতা
সমস্যা
সমাধান:
-
প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন (ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত)।
-
ডাবের পানি, শসা, তরমুজ ও দই বেশি খান।
-
অ্যালোভেরা জেল বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
ব্রণ ও অতিরিক্ত তেলতেলে ত্বক
সমস্যা:
সমাধান:
-
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
-
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (বাদাম, মাছ, অলিভ অয়েল) খান।
-
টি-ট্রি অয়েল বা অ্যালোভেরা জেল ব্রণের ওপর ব্যবহার করুন।
-
অয়েল-ফ্রি ফেসওয়াশ দিয়ে দিনে অন্তত ২ বার মুখ পরিষ্কার করুন।
চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল
সমস্যা:
সমাধান:
-
প্রতিদিন অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।
-
শসার রস, টি ব্যাগ বা ঠান্ডা দুধ চোখের ওপর ব্যবহার করুন।
-
ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ আই ক্রিম বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন।
রমজানে ত্বকের যত্নে কার্যকরী টিপস
শরীরকে হাইড্রেট রাখুন
রমজানে ত্বক সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানি পান করা। ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং চা, কফি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীর থেকে পানি শোষণ করে নেয়।
পুষ্টিকর খাবার খান
রমজানে ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে,
যেমন:
- কমলা, লেবু, বেরি জাতীয় ফল
- গাজর, শসা, টমেটো, পালং শাক
- বাদাম, চিয়া সিড, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ
সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
রমজানে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV Rays) ত্বক কালো করে দিতে পারে, তাই বাইরে যাওয়ার আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি, ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখুন
ঘুমের অভাবে ত্বক নিস্তেজ ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
প্রাকৃতিক উপায়ে রমজানে ত্বকের যত্ন
-
শসা ও গোলাপজল: ত্বক শীতল ও আর্দ্র রাখে।
-
হলুদ ও দই: ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
-
মধু: প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে।
-
অ্যালোভেরা: ত্বক ঠাণ্ডা রাখে ও ইনফ্ল্যামেশন কমায়।
-
তুলসি পাতা: ব্রণ ও ত্বকের ইনফ্ল্যামেশন দূর করে।
রমজানে কিছু কার্যকরী বিউটি প্রোডাক্ট
বাংলাদেশের বাজারে রমজানের জন্য কিছু কার্যকরী স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, যেমন:
-
Himalaya Moisturizing Aloe Vera Face Wash
-
Neutrogena Hydro Boost Water Gel (for Dry Skin)
-
La Roche-Posay Anthelios SPF 50 Sunscreen
-
Simple Hydrating Light Moisturizer
-
The Body Shop Tea Tree Oil (for Acne Control)
FAQ
রমজানে ত্বক ফেটে যায় কেন?
রমজান মাসে, ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকা - বিরতিহীন উপবাসের অভ্যাস শরীর এবং ত্বক উভয়ের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা ব্রণের রোগবিদ্যার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জারণ অবস্থা অন্তর্ভুক্ত
রোজা রাখলে কি ব্রণ বাড়ে?
যখন আপনি রোজা রাখেন, তখন আপনার শরীরের হরমোনের মাত্রা পরিবর্তিত হয়, যা অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের কারণ হতে পারে, যার ফলে ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং ব্রণ দেখা দেয়। রমজান মাসে অপর্যাপ্ত জল গ্রহণের কারণে পানিশূন্যতাও ব্রণ তৈরিতে অবদান রাখতে পারে। ব্রণ বৃদ্ধি মানসিক চাপ এবং ক্লান্তির ফলে হতে পারে।
রোজা রাখলে কি মুখ উজ্জ্বল হয়?
স্কিন ফাস্টিং কি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে পারে? হ্যাঁ, এটা পারে ! অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বককে পুনঃসংশোধন করার সুযোগ দিয়ে এবং জ্বালাপোড়া কমিয়ে, আপনি উন্নত টেক্সচার, হ্রাস সংবেদনশীলতা এবং একটি প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করতে পারেন। তবে, কার্যকারিতা আপনার ত্বকের ধরণ এবং সামগ্রিক ত্বকের যত্নের অভ্যাসের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।
রমজানে ঠোঁট শুকিয়ে না যাওয়ার উপায়?
ক্যাফেইন এবং ধূমপান পরিহার করুন : ক্যাফেইন এবং ধূমপান উভয়ই আপনার শরীর এবং ঠোঁটকে পানিশূন্য করতে পারে। বিশেষ করে রমজান মাসে আপনার গ্রহণ কমানোর কথা বিবেচনা করুন। রাতের বেলায় উপশমের জন্য হিউমিডিফায়ার: রাতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করতে পারে, ঘুমানোর সময় ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
রমজানে সানস্ক্রিন লাগানো যাবে কি?
কিন্তু ডাঃ শাহ বলেন যে আপনি রোজা রাখার সময়ও আপনার স্বাভাবিক পণ্য ব্যবহার করতে পারেন । "একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে যে আপনি যখন রোজা রাখেন তখন আপনার ঐতিহ্যবাহী ত্বকের যত্নের পণ্য ব্যবহার করতে পারবেন না," তিনি বলেন। "আমি মনে করি আপনি রোজা রাখার সময়ও আপনার ক্লাসিক ময়েশ্চারাইজার এবং সান ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন
উপসংহার
রমজানে ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে ব্রণ, পানিশূন্যতা ও ক্লান্তির ছাপ এড়ানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সঠিক স্কিনকেয়ার রুটিন এবং প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে রোজার সময়ও ত্বক থাকবে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।