এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল নিয়মিত গ্রহণ করলে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রায় ১৫%-২০% পর্যন্ত দমন করা সম্ভব। অলিভ অয়েল শরীরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করতে সক্ষম।
হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক জীবাণু পেটে বাসা বেঁধে আলসার এবং পাকস্থলীর ক্যান্সার সৃষ্টি করে। এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেল এসব ব্যাকটেরিয়া সারাতে সাহায্য করে।
প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য
প্রতিদিন দুই টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল গ্রহণ করলে প্রদাহনাশক ওষুধের মতো কার্যকর ফল পাওয়া যায়। অলিভ অয়েলে থাকা উপাদানসমূহ প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে।
এসব উপাদানসমূহ দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন- হৃদরোগ, ক্যান্সার, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, আলঝেইমার, আর্থ্রাইটিস সারাতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রদাহনাশক হিসেবে অনেকটা ওলিওকান্থাল আইবুপ্রোফেন ওষুধের মত কাজ করে।
স্ট্রোক প্রতিরোধে সাহায্য করে
রক্ত জমাট বাঁধার কারণে বা রক্তক্ষরণের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে যার ফলে স্ট্রোক হয়। অলিভ অয়েলে বিদ্যমান মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে যারা জলপাই তেল নিয়মিত গ্রহণ করে থাকে তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক কমে যায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
ওজন বাড়া বা কমার সাথে অলিভ অয়েলের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে অলিভ অয়েল খেলেও ওজন তেমন বাড়ে না, অন্যদিকে সয়াবিন তেল খেলে প্রচুর পরিমাণে ওজন বাড়ে। জলপাই বা অলিভে মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে যা শরীরের ভিতরের ফ্যাট জাতীয় কোষকে ভাঙতে সাহায্য করে। অলিভ অয়েলে অ্যাডিপন্সটিন নামের এক জাতীয় প্রোটিন ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
অলিভ অয়েলে থাকা মোনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ভিটামিন ই, কে, আয়রন, ওমেগা-৩ এই উপাদানগুলি হজম শক্তিতে ভালো প্রভাব ফেলে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল খেলে উপকার পাওয়া যায়।
টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, অলিভ অয়েল রক্তে শর্করা ও ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত অলিভ অয়েল গ্রহণের ফলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমতে পারে। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই, এবং পলিফেনলস হৃদরোগ প্রতিরোধ, ওজন নিয়ন্ত্রণ, এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায় এবং পেশির ব্যথা কমায়।
হাড়ের দৃঢ়তা বজায় রাখে
শুধুমাত্র ক্যালসিয়াম নয়, অলিভ অয়েলও হাড়ের দৃঢ়তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে প্রয়োজন অস্টিওক্যালসিন নামের একটি হরমোনের, যা অলিভ অয়েলে বিদ্যমান।
ক্যান্সার রোধে সহায়তা করে
অলিভ অয়েলের গ্রহণের ফলে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করা যায়। এই তেলে অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান যা ফ্রি র্যাডিকেল ধ্বংস করে ক্যান্সারের অন্যতম চালিকাশক্তিকে ধ্বংস করে। নিয়মিত যারা অলিভ অয়েল খাদ্যতালিকায় রাখেন তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
উপসংহার
অলিভ অয়েল, বিশেষত এক্সট্রা ভার্জিন ভ্যারিয়েন্ট, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। এর বহুমুখী স্বাস্থ্যগুণ শরীরকে রোগমুক্ত রাখে এবং সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে। সঠিক সময়ে এবং সঠিক পরিমাণে অলিভ অয়েল ব্যবহার করে আপনি হৃদরোগ, স্ট্রোক, এবং ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করতে পারেন।
FAQ
এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল খাওয়ার উপকারিতা কি?
উত্তর: এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল (Extra Virgin Olive Oil) হলো সর্বোচ্চ গুণমানের অলিভ অয়েল, যা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা হয় এবং এতে কোনো রাসায়নিক বা অতিরিক্ত প্রসেসিং থাকে না। এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ, প্রদাহ কমানো, এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এই তেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই এবং পলিফেনলস আমাদের শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করে এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।
অলিভ অয়েল চুলের জন্য কীভাবে ব্যবহার করব?
উত্তর: চুলে ম্যাসাজ করে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
মুখে অলিভ অয়েল লাগালে কি ত্বকের সমস্যা হয়?
উত্তর: না, এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ব্রণ প্রতিরোধ করে।
Olive Oil দিয়ে কি রান্না করা যায়?
উত্তর: এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল কাঁচা খাওয়া উত্তম, তবে হালকা রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
ত্বকের জন্য কোন অলিভ অয়েল সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, কারণ এতে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুষ্টি নষ্ট হয় না।