শীতকালে শিশুর যত্ন: কী করবেন এবং কী করবেন না
November 4, 2026
November 4, 2026
শীতকালে শিশুর যত্ন নিয়ে বাবা-মায়ের চিন্তার শেষ থাকে না। ঠান্ডা বাতাস, রুক্ষ আবহাওয়া আর ঋতু পরিবর্তনের কারণে এ সময় ছোট সোনামণিরা খুব সহজেই নানা শারীরিক সমস্যায় পড়তে পারে। শিশুর ত্বকের কোমলতা বজায় রাখা, তাকে সঠিকভাবে উষ্ণ রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। শীতকালে শিশুকে সুস্থ, নিরাপদ ও আনন্দময় রাখতে ১০টি কার্যকর ও সহজ উপায় তুলে ধরা হলো:
১. সঠিক পোশাক নির্বাচন ও স্তর সাজানো
শীতের সময় শিশুকে একটি ভারী বা মোটা কাপড় না পরিয়ে কয়েকটি হালকা ও নরম কাপড়ের স্তর পরানো অনেক বেশি কার্যকর। এতে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা সহজ হয়, আর গরম বেশি লাগলে একটি স্তর খুলে নেওয়াও যায়। প্রথম স্তরে শিশুকে নরম ও আরামদায়ক সুতি বা উলের লং-স্লিভ বডিস্যুট পরান। এর ওপর হালকা জ্যাকেট বা গরম রমপার দিন। বাইরে বের হলে বাতাস ও ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে টুপি বা হুডযুক্ত শীতের জ্যাকেট ব্যবহার করুন। মাথা, হাত ও পা ভালোভাবে ঢেকে রাখুন, কারণ শরীরের এই অংশগুলো দিয়ে দ্রুত তাপ বেরিয়ে যায়। তবে জ্যাকেট যেন অতিরিক্ত ভারী না হয়, যাতে শিশু সহজে হাত-পা নাড়াতে পারে। শিশুর ঘাড় বা বুকের পেছনে হাত দিয়ে দেখুন। জায়গাটা ঘেমে থাকলে বা শরীর বেশি গরম লাগলে সঙ্গে সঙ্গে একটি স্তর খুলে দিন।
২. ত্বক ময়শ্চারাইজ ও আর্দ্র রাখা
শীতকালে ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস শিশুর কোমল ত্বক খুব দ্রুত খসখসে, শুষ্ক বা লালচে করে তোলে। ঘরে হিটার বা ফ্যান চললে ত্বকের আর্দ্রতা আরও কমে যায়। তাই ত্বকের সুরক্ষায় নিয়মিত শিশুর উপযোগী, সুগন্ধিমুক্ত বেবি ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন। গোসলের পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ক্রিম বা লোশন লাগান, এতে আর্দ্রতা ভালো ধরে থাকে। বাইরে বের হওয়ার আগে মুখ ও হাতে একটি মোটা ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগিয়ে নিন, যা বাতাস থেকে ত্বককে রক্ষা করবে।
৩. নিরাপদ ও সংক্ষিপ্ত গোসল
শীতকালে অতিরিক্ত গোসল শিশুর ত্বক আরও শুষ্ক করে ফেলে। তাই নবজাতক বা ছোট শিশুকে সপ্তাহে ২-৩ বার গোসল করানোই যথেষ্ট। গোসলের আগে ঘরটি ভালোভাবে গরম করে নিন এবং নিশ্চিত করুন সেখানে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে না। পানি অতিরিক্ত গরম না রেখে কুসুম গরম, অর্থাৎ প্রায় ৩৭° সে. (৯৮.৬° ফা.) থেকে ৩৮° সে. (১০০° ফা.) রাখুন। থার্মোমিটার বা কনুই দিয়ে মেপে নিন। গোসলের সময় শিশুর শরীরের যে অংশ ধোয়া হচ্ছে না, সেটি তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখুন। এতে শরীর ঠান্ডা হবে না এবং গোসল দ্রুত শেষ করা যাবে। গোসল না করানোর দিনগুলোতে কুসুম গরম পানিতে সুতি কাপড় ভিজিয়ে শিশুর ত্বকের ভাঁজ ও ডায়াপার এলাকা স্পঞ্জ করে পরিষ্কার রাখুন। গোসল শেষে দ্রুত তোয়ালে দিয়ে গায়ের পানি আলতোভাবে মুছে নিন এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সঙ্গে সঙ্গে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগান।
৪. আরামদায়ক ও নিরাপদ ঘরের পরিবেশ
শিশুর থাকার ঘর যেন খুব ঠান্ডা বা খুব গরম না হয়। ঘরের তাপমাত্রা এমন রাখুন, যাতে হালকা পোশাকেই শিশু আরামে থাকে। সেই সঙ্গে ঘরে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, কারণ ঘর সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে বাতাস ভারী হয়ে যায় এবং অস্বস্তি বাড়ে। রুম হিটার ব্যবহার করলে তা শিশুর কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন। হিটারের বাতাস যেন সরাসরি শিশুর গায়ে না লাগে, আর বিছানা, কম্বল বা পর্দার কাছে না থাকে, নইলে আগুন ধরার ঝুঁকি থাকে। শিশু ঘুমিয়ে পড়লে হিটার বন্ধ করে দেওয়াই নিরাপদ।
৫. পর্যাপ্ত পুষ্টি ও তরল নিশ্চিত করা
শীতে শরীর আর্দ্র রাখতে খাবার ও তরলের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য কেবল বুকের দুধই যথেষ্ট। এটিই শিশুকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অ্যান্টিবডি জোগায়। তাই তাকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ান। মায়েরও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কারণ বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে।
৬. ঘুমানোর নিরাপদ নিয়মাবলী
এক বছরের কম বয়সী শিশুর বিছানায় আলগা কম্বল, কাঁথা, বালিশ বা নরম খেলনা রাখবেন না। এগুলো শিশুর নাক-মুখ ঢেকে শ্বাসরোধ বা হঠাৎ শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কম্বলের বদলে পরিধানযোগ্য স্লিপ স্যাক বা পা-ঢাকা আরামদায়ক জামা ব্যবহার করুন। শিশুকে সবসময় চিত করে শুইয়ে ঘুম পাড়ান এবং ঘুমের সময় তার মাথা ও মুখ কিছু দিয়ে ঢাকবেন না।
৭. ডায়াপার পরিবর্তন ও পরিচ্ছন্নতা
ঠান্ডা লাগার ভয়ে ভেজা বা ময়লা ডায়াপার বেশিক্ষণ পরিয়ে রাখবেন না। ডায়াপার ভিজে গেলেই বদলে দিন। জায়গাটি কুসুম গরম পানি ও নরম তুলা দিয়ে পরিষ্কার করে ভালো করে শুকিয়ে নিন। র্যাশ বা লালচে ভাব ঠেকাতে ডায়াপার এলাকায় নিয়মিত মানসম্মত বেবি ব্যারিয়ার ক্রিম লাগাতে পারেন।
৮. সর্দি-কাশি ও সংক্রমণ প্রতিরোধ
শীতকালে ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ে। শিশুকে কোলে নেওয়ার বা ছোঁয়ার আগে পরিবারের সবাই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। সর্দি-কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত কারও কাছ থেকে শিশুকে দূরে রাখুন। নিয়মিত টিকাসমূহ সময়মতো দেওয়া নিশ্চিত করুন।
৯. বাইরে বের হওয়ার সময় সতর্কতা
শীতের দিনে বাইরে যাওয়ার সময় শিশুর মাথা, কান, হাত ও পা ভালোভাবে ঢেকে রাখুন। এর জন্য হালকা টুপি, মোজা ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। বাইরে থেকে গরম কোনো জায়গায় বা গাড়ির ভেতরে ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে ভারী পোশাক ও টুপি খুলে দিন, যাতে শিশু ঘেমে না যায়।
১০. স্বাস্থ্য পরিবর্তন ও উপসর্গের প্রতি খেয়াল রাখা
শিশুর খাওয়া, ঘুম ও প্রস্রাবের পরিমাণের দিকে প্রতিদিন নজর রাখুন। সে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাঁদছে কি না বা নিস্তেজ হয়ে পড়ছে কি না, তাও লক্ষ করুন। নিয়মিত প্রস্রাব হওয়া (দিনে অন্তত ৬-৮ বার) এবং সক্রিয় থাকা শিশুর সুস্থতার প্রধান লক্ষণ।
বাংলাদেশে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা: যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে
বাংলাদেশী সংস্কৃতিতে শিশুর যত্ন সম্পর্কিত বহু যুগ ধরে চলে আসা কিছু কুসংস্কার ও ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এগুলো অনেক সময় ভালোবাসা বা ভালো লাগা থেকে করা হলেও, বিজ্ঞানসম্মতভাবে শিশুর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ভুল ধারণা: গায়ে ও মাথায় খাঁটি সরিষার তেল মালিশ
নবজাতক বা ছোট শিশুর ত্বকে সরিষার তেল মালিশ করা একেবারেই নিরাপদ নয়। এটি ঝাঁঝালো হওয়ায় ত্বকে র্যাশ বা অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে এবং আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়। তাই হালকা বেবি অয়েল, অ্যালার্জিমুক্ত লোশন বা খাঁটি নারকেল তেল ব্যবহার করুন।
ভুল ধারণা: সর্দি-কাশি হলে বা শীতে প্রতিদিন শিশুকে গোসল করানো যাবে না।
গোসল না করালে শিশুর গায়ে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া জমা হতে পারে। কেবল ঠান্ডা বাতাস বা গোসলের কারণে সর্দি-কাশি হয় না, সর্দি-কাশি মূলত ভাইরাসের সংক্রমণে হয়। শীতে সপ্তাহে ২–৩ দিন কুসুম গরম পানিতে ৫–১০ মিনিটের মধ্যে দ্রুত গোসল করান। সর্দি-কাশি থাকলে কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছে দিন বা সংক্ষিপ্ত গোসল করান।
ভুল ধারণা: রোদে রাখা পানিতে গোসল করানো ভালো
রোদে পানি গরম করে শিশুকে গোসল করানো অনেক পরিবারে প্রচলিত। কিন্তু রোদে রাখা পানি সব জায়গায় সমান গরম হয় না—ওপরের অংশ বেশি গরম আর নিচের অংশ ঠান্ডা থাকতে পারে। এছাড়া রোদে গরম করলে পানির জীবাণু মরে না। নবজাতকের জন্য ফুটিয়ে ঠান্ডা করা পানি ব্যবহার নিরাপদ।
ভুল ধারণা: শিশুর চোখে কাজল দিলে চোখ বড় ও সুন্দর হয় এবং নজর লাগে না।
বাজারে পাওয়া কাঁচা কাজল বা সুরমায় মাত্রাতিরিক্ত ‘সীসা’ থাকে। এটি শিশুর চোখে ইনফেকশন, অ্যালার্জি বা চোখের অশ্রুনালী বন্ধ করে দিতে পারে। দীর্ঘদিন সীসার সংস্পর্শে থাকলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভুল ধারণা: শীতে শিশুকে মোটা কম্বল, কাঁথা ও একাধিক ভারী কাপড়ে মুড়িয়ে রাখলে ঠান্ডা লাগবে না।
অতিরিক্ত কাপড় পরালে বা মুখের ওপর মোটা কম্বল দিলে শিশু ঘেমে যেতে পারে এবং শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। এতে শ্বাসরোধের ঝুঁকিও বাড়ে।
ভুল ধারণা: সর্দি-কাশি হলেই দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক বা কাশির সিরাপ খাওয়াতে হয়।
শিশুদের সাধারণ সর্দি-কাশি ৯০% ক্ষেত্রেই ভাইরাসজনিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনো অ্যান্টিবায়োটিক বা কাশির সিরাপ দেবেন না। হালকা সর্দিতে কুসুম গরম পানি, পর্যাপ্ত বুকের দুধ ও স্যালাইন নেজাল ড্রপই যথেষ্ট।
ভুল ধারণা: শিশুকে রোদে বসিয়ে গায়ে গরম তেল ডললে হাঁড় শক্ত হয়
কড়া রোদে বেশিক্ষণ রাখলে শিশুর কোমল ত্বক পুড়ে যেতে পারে এবং চামড়ার ক্ষতি হতে পারে। তেল ডললে হাড্ডি শক্ত হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
তিন মাসের কম বয়সী শিশুর যেকোনো জ্বর
দ্রুত বা কষ্টকর শ্বাস, বুক দেবে যাওয়া
বুকের দুধ বা খাবার খেতে না চাওয়া
স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ভেজা ডায়াপার
অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা ডাকলেও সাড়া না দেওয়া
শীতের ঠান্ডা আমেজ যেমন বড়দের জন্য আনন্দের, তেমনি ছোট সোনামণিদের জন্য কিছুটা সংবেদনশীল। তবে সঠিক জ্ঞান, সামান্য সতর্কতা এবং প্রতিদিনের নিয়মিত যত্ন আপনার শিশুকে রাখতে পারে পুরোপুরি সুস্থ, উষ্ণ ও উৎফুল্ল। প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো এড়িয়ে সঠিক নিয়মে শিশুর যত্ন নিন। আপনার একটু বাড়তি খেয়াল ও ভালোবাসা দিয়ে শিশুর শীতকালীন দিনগুলোকে করে তুলুন নিরাপদ, আরামদায়ক ও আনন্দময়।
উত্তর: গোসলের পরপরই শিশুর নখ কাটা সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ, কারণ পানিতে ভেজার পর নখ নরম থাকে। ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলোতে শিশুর জন্য তৈরি বিশেষ ‘বেবি নেইল ক্লিপার’ বা ‘নেইল ফাইল’ ব্যবহার করে ঘুমানোর সময় নখ কেটে দেওয়া ভালো।
উত্তর: কানের ভেতরে কখনো কটন বাড বা অন্য কিছু দেওয়া যাবে না। গোসলের পর হালকা গরম পানিতে নরম সুতি কাপড় ভিজিয়ে কানের পেছনের অংশ এবং বাইরের লতি আলতোভাবে মুছে পরিষ্কার করে দিতে হবে।
উত্তর: হ্যাঁ, সকালের মিষ্টি রোদ (সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে) শিশুর জন্য খুব উপকারী, কারণ এটি শরীরে প্রাকৃতিক ভিটামিন-ডি তৈরি করতে সাহায্য করে। তবে কড়া রোদে বা বেশি বাতাস চলাচলের স্থানে রাখা যাবে না। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট রোদে রাখাই যথেষ্ট।
উত্তর: শীতে শুষ্কতা বা তৈলাক্ততার কারণে মাথার ত্বকে হলুদ বা সাদাটে ভুসির মতো আস্তরণ দেখা দিতে পারে। গোসলের ঘণ্টাখানেক আগে সামান্য বেবি অয়েল বা নারকেল তেল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে পরে বেবি শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নরম চিরুনি দিয়ে আলতো আঁচড়ে দিলে এটি পরিষ্কার হয়ে যায়।
উত্তর: শীতকালে নাক বন্ধ হলে শিশুর প্রতি নাকে ১-২ ফোঁটা নরমাল স্যালাইন ড্রপ দিয়ে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। এরপর প্রয়োজনে বেবি নেজাল এস্পিরেটর (Nasal Aspirator) ব্যবহার করে শ্লেষ্মা বের করে আনুন। দুধ খাওয়ানো বা ঘুমানোর ঠিক আগে এটি করা সবচেয়ে ভালো।
উত্তর: ছোট শিশু বা নবজাতকের ত্বকে সরিষার তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি খুব কড়া হওয়ায় ত্বকে জ্বালাপোড়া, র্যাশ বা অ্যালার্জির সৃষ্টি করতে পারে। এর বদলে হালকা বেবি অয়েল, অ্যালার্জি-মুক্ত লোশন বা খাঁটি নারকেল তেল ব্যবহার করা নিরাপদ।
উত্তর: হাত ও পায়ের সুতির বা উলের নরম মোজা পরিয়ে ঘুমানো নিরাপদ, তবে খেয়াল রাখতে হবে মোজার রাবার যেন খুব টাইট বা শক্ত না হয়। টাইট মোজা পরলে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
উত্তর: শিশুর ফেটে যাওয়া ঠোঁটে বুকের দুধ বা শিশুর জন্য নিরাপদ সুগন্ধিহীন ‘পেট্রোলিয়াম জেলি’ (Vaseline) ব্যবহার করা যায়। ৬ মাসের ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো কেমিক্যালযুক্ত লিপবাম এড়িয়ে চলুন।
উত্তর: শীতে ঘাম না হওয়ার কারণে শিশু বেশি প্রস্রাব করতে পারে। ২৪ ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ বার বা তার বেশি ভেজা ডায়াপার হওয়া স্বাভাবিক। তবে ৩-৪ বারের কম প্রস্রাব হলে শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে বুঝতে হবে।
উত্তর: সাধারণত খাবার বা আবহাওয়ার কারণে সাময়িক রঙ পরিবর্তন হতে পারে। তবে মল যদি একদম সাদা, লাল (রক্তযুক্ত) বা আলকাতরার মতো কালো হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা জরুরি।
উত্তর: শীতকালে ঠান্ডা বাতাসে চোখে পিছুটি জমতে পারে। জীবাণুমুক্ত তুলা কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে ভেতরের কোণ থেকে বাইরের দিকে আলতো করে পরিষ্কার করে দিন। প্রতি চোখের জন্য আলাদা তুলা ব্যবহার করুন।
উত্তর: না, শীতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা একদম উচিত নয়। পাউডার বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে ত্বক আরও শুষ্ক করে দেয় এবং এর মিহি গুঁড়ো শিশুর ফুসফুসে ঢুকে শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে।
উত্তর: শীতে দিন ছোট হওয়ায় শিশু দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। রাতের খাবারের পরপরই (রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে) আরামদায়ক তাপমাত্রায় ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া ভালো, যাতে তার পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত হয়।
উত্তর: রাবার বা প্লাস্টিকের ম্যাটের ওপর সরাসরি শিশুকে শোয়ানো যাবে না, কারণ এটি ঠান্ডা ধরে রাখে। ওয়াটারপ্রুফ ম্যাটের ওপর একটি নরম সুতির কাঁথা বা চাদর বিছিয়ে তারপর শিশুকে শায়িত করুন।
উত্তর: না, কার সিটে বেল্ট বাঁধার সময় ভারী মোটা জ্যাকেট পরানো অনিরাপদ। দুর্ঘটনার সময় মোটা কাপড় দুমড়ে গিয়ে বেল্ট ঢিলে হয়ে যেতে পারে। শিশুর স্বাভাবিক কাপড়ে বেল্ট বেঁধে ওপরে একটি কম্বল ঢেকে দেওয়া নিরাপদ।
উত্তর: ৬ মাসের কম বয়সী শিশুকে বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো তরল বা ভেষজ কাড়া (যেমন তুলসী পাতা/মধু) দেওয়া যাবে না। এটি পেটের সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
উত্তর: একজিমা থাকলে গরম পানির গোসল খুব সংক্ষিপ্ত (৫ মিনিটে) করতে হবে এবং গোসলের পরপরই চর্বিযুক্ত বা ঘন ময়শ্চারাইজার (যেমন সেরামাইডযুক্ত ক্রিম) দিনে বহুবার ব্যবহার করতে হবে। এতে না কমলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
উত্তর: হ্যাঁ, শীতে সামান্য সর্দি থাকলেও নিয়মিত টিকাদানে কোনো সমস্যা নেই। উল্টো শীতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে বলে সময়মতো টিকা দেওয়া অনেক বেশি জরুরি।
উত্তর: নাভি শুকিয়ে পড়ে না যাওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো তেল বা লোশন দেওয়া যাবে না। গোসলের পর নাভির চারপাশ পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে শুকনো করে মুছে দিন। নাভি উন্মুক্ত ও শুকনো রাখাই প্রধান যত্ন।
উত্তর: শিশুর ঘাড়, কান বা বুক অতিরিক্ত গরম লাগলে, ত্বক লালচে হয়ে গেলে, শিশু ছটফট করলে কিংবা দ্রুত শ্বাস নিলে বুঝতে হবে তার শরীর বেশি গরম হয়ে গেছে। তখন দ্রুত একটি কাপড়ের স্তর কমিয়ে দিন।স