ডায়াবেটিস কী? লক্ষণ, কারণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা, খাবার ও নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ গাইড
July 26, 2026
July 26, 2026
ডায়াবেটিস এখন আর শুধু বয়স্ক মানুষের রোগ নয়। তরুণ, কর্মজীবী, গর্ভবতী নারী, এমনকি শিশুরাও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। সবচেয়ে চিন্তার ব্যাপার হলো, অনেকেই টের পান না যে তাঁদের শরীরে ডায়াবেটিস বাসা বেঁধেছে। অনেক সময় রোগটি ধরা পড়ে অন্য কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে।
তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনার একটু সচেতনতা আর সঠিক নিয়ম মেনে চললেই ডায়াবেটিসকে একদম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আপনার এবং পরিবারের সুস্থতার কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছে এই সহজ গাইড। আসুন, জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিস কী, কেন হয়, কী লক্ষণ দেখা দেয়, কীভাবে পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা হয় এবং প্রতিদিনের খাবার ও জীবনযাপনে কী খেয়াল রাখা দরকার।
গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল নোট: এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতা ও তথ্যের জন্য। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়। কোনো ওষুধ বা ইনসুলিন নিজে থেকে শুরু বা বন্ধ করবেন না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডোজ পরিবর্তন করবেন না।
ডায়াবেটিস কীভাবে হয়, তা বুঝতে প্রথমে ৩টি বিষয় জানা দরকার— গ্লুকোজ, অগ্ন্যাশয় ও ইনসুলিন।
আমরা প্রতিদিন কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার খাই। হজমপ্রক্রিয়ার সময় সেগুলো ভেঙে 'গ্লুকোজ' এ পরিণত হয়। এরপর এই গ্লুকোজ মেশে রক্তে যায়। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়লেই সংকেত পায় আমাদের অগ্ন্যাশয়। তখন অগ্ন্যাশয় 'ইনসুলিন' নামের একটি বিশেষ হরমোন নিঃসৃত করে। এই হরমোনটি রক্তে থাকা গ্লুকোজকে শরীরের বিভিন্ন কোষে প্রবেশ করাতে সাহায্য করে। কোষগুলো এই গ্লুকোজকে কাজে লাগিয়ে আমাদের শরীরকে শক্তি দেয় ।
ডায়াবেটিস হলে আমাদের শরীর হয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। এমনকি তৈরি হওয়া ইনসুলিনকে সঠিকভাবে কাজেও লাগাতে পারে না। ফলে গ্লুকোজ কোষে ঢুকতে না পেরে রক্তেই জমতে থাকে। আর দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করার বা গ্লুকোজের এই অতিরিক্ত মাত্রাকেই আমরা বলি ‘ডায়াবেটিস’।
ডায়াবেটিসের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে এর ধরণের ওপর। রোগটি মূলত তিনটি উপায়ে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে।
আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইমিউন সিস্টেম) কাজ হলো বাইরের জীবাণু থেকে শরীরকে রক্ষা করা। কিন্তু হঠাৎ ভাইরাস সংক্রমণ বা জিনের জটিলতার কারণে ইমিউন সিস্টেম মাঝেমধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। আর ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরিকারী কোষগুলোকে (বিটা সেল) 'শত্রু' ভেবে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
ফলস্বরূপ, অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরির ক্ষমতা হারায়। শরীরে ইনসুলিন তৈরি একবারে বন্ধ হয়ে যায়। এভাবেই সূচনা হয় টাইপ-১ ডায়াবেটিসের।
এটি একদিনে হয় না। বছরের পর বছর ধরে শরীরে তৈরি হয়। অনিয়মিত জীবনযাপন, কায়িক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ফলে কোষের চারপাশে চর্বি জমতে শুরু করে। এতে কোষগুলো ইনসুলিনকে আর চিনতে পারে না, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় 'ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স' (Insulin Resistance)।
শুরুতে অগ্ন্যাশয় বাড়তি ইনসুলিন তৈরি করে কাজ চালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। আর টাইপ ২ ডায়াবেটিস হয়।
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন হয়। হরমোনগুলো অনেক সময় ইনসুলিনের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে। এতে অগ্ন্যাশয় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ইনসুলিন তৈরি করে। কিন্তু যদি পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়, তখনই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে এবং গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দেয়।
ডায়াবেটিসের ধরন যা-ই হোক না কেন, আপনি কিংবা আপনার প্রিয়জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কি না, তা বুঝতে নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দেওয়া খুব জরুরি।
ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণ হলো:
ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
অতিরিক্ত পিপাসা লাগা
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্ষুধা লাগা
কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা
চোখে ঝাপসা দেখা
ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
ত্বক, মাড়ি বা প্রস্রাবে বারবার সংক্রমণ
হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, জ্বালা বা অবশভাব
ত্বক শুষ্ক বা চুলকানিযুক্ত হওয়া
মনোযোগ কমে যাওয়া বা মেজাজ পরিবর্তন
শিশুরা অনেক সময় নিজেদের শারীরিক অস্বস্তির কথা মুখে স্পষ্ট করে বলতে পারে না। তাই বাবা-মা হিসেবে শিশুর হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নজর এড়ানো উচিত নয়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে টাইপ-১ ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায়, যার লক্ষণগুলো বেশ দ্রুত প্রকাশ পায়:
হঠাৎ খুব বেশি পানি পান করা (সবসময় পানি পিপাসা থাকা)
রাতে বারবার প্রস্রাব করা
যথেষ্ট খাওয়ার পরও দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
সারাক্ষণ দুর্বল বা অস্বাভাবিক ক্লান্ত হয়ে থাকা
পেটব্যথা, বমি বমি ভাব বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া
নিশ্বাসে বিশেষ গন্ধ গন্ধ পাওয়া
ডায়াবেটিস কেন হয়, তার সুনির্দিষ্ট একটি কারণ নেই। টাইপ ভেদে এবং মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে এর পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে:
কেবল উপসর্গ বা শারীরিক লক্ষণ দেখেই ডায়াবেটিস নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। ল্যাবরেটরিতে রক্ত পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তির ডায়াবেটিস আছে কি না, তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়।
পদ্ধতি: পরীক্ষার আগে রাতে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কিছু না খেয়ে (শুধু পানি পান করা যাবে) পরদিন সকালে খালি পেটে রক্ত দেওয়া হয়।
ফলাফল:
স্বাভাবিক: 100 এর কম।
প্রি-ডায়াবেটিস: 100 -125
ডায়াবেটিস: 126 বা তার বেশি।
পদ্ধতি: এই পরীক্ষার জন্য খালি পেটে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই; দিনের যেকোনো সময় রক্ত দেওয়া যায়। এটি মূলত আমাদের রক্তকণিকার (হিমোগ্লোবিন) সঙ্গে জমে থাকা চিনির পরিমাণ হিসাব করে বিগত ২ থেকে ৩ মাসের গড় শর্করার মাত্রা প্রকাশ করে।
ফলাফল:
স্বাভাবিক: 5.7-এর কম।
প্রি-ডায়াবেটিস: 5.7% - 6.4%
ডায়াবেটিস: 6.5% বা তার বেশি।
পদ্ধতি: প্রথমে খালি পেটে একবার রক্ত নেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসকের নির্দেশে ৭৫ গ্রাম বিশুদ্ধ গ্লুকোজ মেশানো পানি পান করানো হয় এবং ঠিক ২ ঘণ্টা পর আবার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। (গর্ভবতী নারীদের ডায়াবেটিস শনাক্তে বেশি ব্যবহৃত )।
ফলাফল (২ ঘণ্টা পর):
স্বাভাবিক: 140-এর কম।
প্রি-ডায়াবেটিস: 140 - 199
ডায়াবেটিস: 200 বা তার বেশি।
পদ্ধতি: খাওয়ার সময়ের কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া দিনের যেকোনো সময় এই পরীক্ষা করা যায়।
ফলাফল: যদি কারো মধ্যে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা হঠাৎ ওজন কমার মতো ডায়াবেটিসের স্পষ্ট লক্ষণ থাকে এবং পরীক্ষায় রক্তের শর্করা 200 বা তার বেশি আসে, তবে তার ডায়াবেটিস নিশ্চিত করা হয়।
অনেকের ধারণা, লক্ষণ না দেখা দিলে পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই—যা একদম ভুল। নিচের যেকোনো একটি পরিস্থিতি মিললেই আপনার রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত:
ডায়াবেটিসের কোনো লক্ষণ থাকলে
অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে অন্য ঝুঁকি রয়েছে
পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে
গর্ভাবস্থায় আছেন
প্রি ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ছিল
উচ্চ রক্তচাপ বা অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল রয়েছে
দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করতে হচ্ছে
চিকিৎসক নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন
ডায়াবেটিসের মূল চিকিৎসা হলো রক্তের শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা। টাইপ অনুযায়ী এর চিকিৎসায় ভিন্নতা রয়েছে:
টাইপ ১ ডায়াবেটিস: নিয়মিত ইনসুলিন নেওয়া চিকিৎসার মূল অংশ।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস: স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন দেওয়া হয়।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস: খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শুরু করা হয়; প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ইনসুলিন বা অন্য চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে।
এছাড়াও চিকিৎসার অংশগুলো হলো:
স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত খাবার
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
প্রয়োজন হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন
রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
চোখ, কিডনি, পা ও স্নায়ুর নিয়মিত পরীক্ষা
ধূমপান ও তামাক পরিহার
পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
সঠিক ব্যবস্থাপনায় ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য হলো—রক্তের চিনিকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখা এবং একই সঙ্গে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ওজন স্বাভাবিক রাখা। মনে রাখবেন, শুধু ওষুধ খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না! এর জন্য খাবার, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রার সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাধারণত—
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন নিতে হবে।
গ্লুকোমিটার দিয়ে গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হবে।
পরিমাণমতো সুষম খাবার খেতে হবে।
নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে।
অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানোর চেষ্টা করতে হবে।
ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে।
নিয়মিত চোখ, কিডনি ও পায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন বন্ধ করা যাবে না।
ডায়াবেটিস ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, অন্ধত্ব, কিডনি অকেজো হওয়া বা পায়ের ক্ষতের মতো কঠিন জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ কমিয়ে আনা সম্ভব।
ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকের প্রথম চিন্তা হয়—এখন কী খাব? ভাত কি একেবারেই বন্ধ করতে হবে? ফল খাওয়া যাবে তো? কার্বোহাইড্রেট খেলেই কি রক্তে শর্করা বেড়ে যাবে? আসলে ডায়াবেটিস মানেই খাবারের তালিকা থেকে সবকিছু বাদ দেওয়া নয়। বেশিরভাগ খাবারই পরিমাণ বুঝে খাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ হলো কী খাচ্ছেন ও কতটা খাচ্ছেন।
সঠিক খাবার বেছে নিয়ে এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিসের সঙ্গে সুস্থভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব।
আঁশযুক্ত শাকসবজি: পালং শাক, লাল শাক, লাউ, ঝিঙে, পটল, করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, টমেটো, বেগুন ইত্যাদি (এগুলো পেট ভরিয়ে রাখে কিন্তু চিনি বাড়ায় না)।
ডাল ও বিচি জাতীয় খাবার: মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি, রাজমা ও বিনস।
লাল বা পূর্ণ শস্য : লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস বা ডালিয়া।
প্রোটিন বা আমিষ: যেকোনো তাজা মাছ, ডিম, চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস এবং পরিমিত চর্বিহীন লাল মাংস।
স্বাস্থ্যকর চর্বি: কাঁচা বাদাম (কাঠবাদাম, চিনাবাদাম), মিষ্টি কুমড়ার বীজ, চিয়া সিড এবং রান্নায় পরিমিত উদ্ভিজ্জ তেল (যেমন: সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল)।
ফল: পরিমিত পরিমাণে তাজা ফল (যেমন: পেয়ারা, আপেল, আমলকী, জামরুল, কমলা)। তবে আম, কাঁঠাল ও অতিরিক্ত পাকা কলা, সেগুলো খুব অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত।
টিপ: ফলের জুস না খেয়ে আস্ত ফল চিবিয়ে খান। কারণ জুসে ফাইবার নষ্ট হয়ে রক্তে চিনি দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু আস্ত ফলের আঁশ রক্তে চিনি ধীরে ধীরে ছাড়তে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস হলে কিছু খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। যেমনঃ
মিষ্টি ও ডেজার্ট: চিনি, গুড়, মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, জিলিপি, আইসক্রিম।
পানীয়: কোমল পানীয় (সফট ড্রিংকস), বোতলজাত জুস, এনার্জি ড্রিংকস এবং অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি।
প্রসেসড ও ফাস্টফুড: প্যাকেটজাত স্ন্যাক্স, চিপস, নুডুলস, বার্গার, পিৎজা ও অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার।
রিফাইন্ড ফুড : সাদা চালের অতিরিক্ত ভাত, ময়দা, সাদা পাউরুটি ও বিস্কুট।
নিচের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন—
২টি আটার রুটি + ১টি সেদ্ধ বা পোচ ডিম + শাকসবজি
অথবা ১ বাটি ওটস দুধ বা পানিতে রান্না করে, সঙ্গে কিছু বাদাম
অথবা ১ কাপ সবজি খিচুড়ি (কম তেলে রান্না)
চিনি ছাড়া চা বা কফি।
১টি মাঝারি আকারের আপেল, পেয়ারা বা কমলা
অথবা এক মুঠো (প্রায় ২০–২৫ গ্রাম) কাঠবাদাম বা চিনাবাদাম (লবণ ছাড়া)
১ কাপ লাল চাল বা ব্রাউন রাইস (পরিমিত)
১ টুকরো মাছ বা চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস
১ বাটি ডাল
পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি
শসা, টমেটো ও গাজরের সালাদ
চিনি ছাড়া চা
সঙ্গে ১টি আটার বিস্কুট বা ভাজা ছোলা
২টি আটার রুটি অথবা অল্প পরিমাণ লাল চাল
মাছ, ডিম বা চামড়া ছাড়া মুরগির মাংস
প্রচুর শাকসবজি
প্রয়োজনে ½ কাপ ডাল
যদি চিকিৎসকের পরামর্শ থাকে বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাহলে ঘুমানোর আগে—
১ গ্লাস চিনি ছাড়া লো-ফ্যাট দুধ
অথবা অল্প পরিমাণ টক দই খেতে পারেন।
অনেকের ধারণা, ডায়াবেটিস হলে চিনি একেবারেই খাওয়া যায় না। আবার কেউ কেউ ভাবেন, সাদা চিনির বদলে গুড় বা ব্রাউন সুগার খেলেই সমস্যা নেই। আসলে দুটিই পুরোপুরি ঠিক নয়। বিশেষ করে মধুকে প্রাকৃতিক বলে ডায়াবেটিসের জন্য নিরাপদ ভাবাও ঠিক নয়।
চিনি খাওয়ার পরিমাণ ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তবে, কিছু লো-ক্যালরি বা নন-নিউট্রিটিভ সুইটেনার ব্যবহার করা যেতে পারে। Zerocal, Splenda Zero Calorie, Sugar Free Natura, Suito Calorie and Fat Free Sweetener হতে পারে আপনার জন্য ভালো অপশন। তবে, খাবারের তালিকায় কোনো মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার রাখতে চাইলে আপনার চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি ওজন, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ঘুম ও মানসিক সুস্থতা ভালো রাখতেও উপকারী হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক শারীরিক কার্যক্রম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সহজভাবে বললে, সপ্তাহে ৫ দিন প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন।
ডায়াবেটিসে উপকারী আরও কিছু ব্যায়াম হলো—
সাইকেল চালানো
সাঁতার
হালকা জগিং
নাচ
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা
রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডের ব্যায়াম
হালকা ওজন তোলা
ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় কারও কারও ইনসুলিনের প্রয়োজন হয়। যেহেতু ইনসুলিন একটি ওষুধ। এটি অব্যশই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।
ইনসুলিন সাধারণত ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে দেওয়া হয়। অনেকেই ভাবেন, ইনসুলিন মানেই প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়ে নিতে হবে। আসলে তা নয়। চিকিৎসক বা ডায়াবেটিস শিক্ষকের কাছ থেকে সঠিক পদ্ধতি শিখে নিলে বেশিরভাগ মানুষ নিজেই বাড়িতে ইনসুলিন নিতে পারেন। ইনসুলিন নেওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা, সঠিক ইনসুলিন ও ডোজ নিশ্চিত করা এবং সঠিক ইনজেকশন পদ্ধতি অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
ইনসুলিন সাধারণত চামড়ার নিচের চর্বিযুক্ত অংশে দেওয়া হয়। প্রতিবার একই জায়গায় না দিয়ে ইনজেকশনের স্থান পরিবর্তন করে নেওয়া ভালো। সাধারণত যেসব জায়গায় ইনসুলিন নেওয়া যায়—
পেটের চামড়ার নিচে
উরুর সামনের বা বাইরের অংশে
বাহুর পেছনের চর্বিযুক্ত অংশে
নিতম্বের চর্বিযুক্ত অংশে
ইনসুলিন দিনে কতবার নিতে হবে, তা সবার জন্য এক নয়।কেউ দিনে একবার, কেউ দুইবার, আবার কারও দিনে ৩–৪ বার বা তারও বেশি ইনসুলিনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনসুলিনের সংখ্যা বা সময় পরিবর্তন করা উচিত নয়।
অনেকে সাধারণ ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটকে "খাওয়ার ইনসুলিন" মনে করেন, যা একদম ভুল! ইনসুলিন মূলত একটি প্রোটিন। এটি মুখে খেলে আমাদের পাকস্থলী ও হজমপ্রক্রিয়া এটিকে সাধারণ খাবারের মতো ভেঙে গুঁড়ো করে ফেলে। ফলে রক্তের চিনি কমাতে এটি কোনো কাজই করতে পারে না। সে কারণেই প্রচলিত ইনসুলিন ইনজেকশন বা ইনসুলিন পাম্পের সাহায্যে ত্বকের নিচে দিতে হয়।
চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সঠিক ধরনের ইনসুলিন কিনুন।
ইনসুলিনের নাম, ব্র্যান্ড, শক্তি (যেমন U-100) এবং ফর্মুলেশন ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন।
প্যাকেটের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেখে নিন।
ইনসুলিন সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
অনুমোদিত ফার্মেসি বা নির্ভরযোগ্য ওষুধ বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ইনসুলিন কিনুন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অনেকেই হারবাল বা ভেষজ পণ্যের ওপর ভরসা করেন। তবে মনে রাখতে হবে, হারবাল পণ্য ডায়াবেটিসের প্রমাণিত চিকিৎসার বিকল্প নয়।
কিছু ভেষজ বা উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তে চিনি কিছুটা কমাতে পারে এমন প্রাথমিক তথ্য কিছু গবেষণায় আসলেও, এগুলোর কার্যকারিতা, সঠিক মাত্রা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তাই হারবাল বা ভেষজ কোনো পণ্য ব্যবহার করতে চাইলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডায়াবেটিস কেবল রক্তের শর্করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি নিঃশব্দে চোখ, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও পায়ের ক্ষতি করতে পারে। তাই রোগটি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না তা জানতে নিয়মিত কিছু হেলথ চেকআপ করানো অত্যন্ত জরুরি।
রক্তে শর্করা (Blood Sugar): চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিরতিতে গ্লুকোমিটার দিয়ে ঘরে বসেই খালি পেটে ও খাওয়ার পর চিনি মাপুন।
নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দিন ছাড়াও কিছু জরুরি পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
যদি ঘরে রক্তে শর্করা মেপে দেখেন মাত্রা বারবার অতিরিক্ত বেশি বা বিপজ্জনকভাবে কম আসছে।
ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়ার পরও যদি চিনি একেবারেই নিয়ন্ত্রণে না আসে।
বারবার 'হাইপোগ্লাইসেমিয়া' (হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম) হতে থাকলে।
হঠাৎ করেই আগের চেয়ে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে।
চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তিতে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন এলে।
পায়ে কোনো ক্ষত, লালচে ভাব, ফোসকা বা সংক্রমণ দেখা দিলে (এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হলে)।
অনবরত বমি বা ডায়রিয়া হতে থাকলে কিংবা অন্য কোনো অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করতে না পারলে।
সব ধরনের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায় না। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বা দেরিতে শুরু করা সম্ভব।
কার্যকর অভ্যাসের মধ্যে রয়েছে:
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
ওজন বেশি হলে ধীরে ধীরে কমানো
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শারীরিক কার্যক্রম
বেশি সবজি ও উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
চিনিযুক্ত পানীয় কমানো
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা
ধূমপান ও তামাক পরিহার
পর্যাপ্ত ঘুম
দীর্ঘক্ষণ বসে না থাকা
ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা
প্রিডায়াবেটিস শনাক্ত হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া
ডায়াবেটিস মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। একটু সচেতনতা, নিয়ম মেনে চলা আর নিজের যত্ন—এই তিনটিই পারে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, সময়মতো পরীক্ষা করুন এবং সুস্থ থাকার চেষ্টা করুন। নিজের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন।
খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজ ১০০ mg/dL-এর কম এবং HbA1c ৫.৭%-এর কম হলে সাধারণত স্বাভাবিক ধরা হয়। তবে পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী স্বাভাবিক মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
HbA1c ৬.৫% বা বেশি, খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজ ১২৬ mg/dL বা বেশি অথবা ২ ঘণ্টার OGTT-তে ২০০ mg/dL বা বেশি হলে ডায়াবেটিস ধরা হতে পারে।
না। খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজ ১০০–১২৫ mg/dL হলে তা প্রিডায়াবেটিসের সীমায় পড়ে। তবে গ্লুকোমিটারের একটি রিডিং দিয়ে ডায়াবেটিস নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজনে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করতে হবে।
ডায়াবেটিস দ্রুত কমানোর কোনো নির্দিষ্ট খাবার নেই। সুষম খাবার, পরিমিত কার্বোহাইড্রেট, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়।
সাধারণত কোনো ফল একেবারে নিষিদ্ধ নয়।আম, কাঁঠাল, লিচ্ পাকা কলা, আঙু্র, খেজুরের মতো ফল পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে গোটা ফল খাওয়া ভালো।
বেশিরভাগ সবজিই খাওয়া যায়। তবে আলু, মিষ্টি আলু, কচু ও শর্করা বেশি থাকা অন্যান্য সবজি পরিমাণ বুঝে খাওয়া উচিত।
হ্যাঁ, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া যেতে পারে। মুড়ি ও চিঁড়ায় কার্বোহাইড্রেট থাকে। তাই ডিম, সবজি বা অন্যান্য প্রোটিনের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।
সকালের খাবারে ডিম, সবজি, ডাল, পরিমিত আটার রুটি বা চিঁড়ার মতো খাবার রাখা যেতে পারে। খাবারের পরিমাণ ব্যক্তির রক্তে শর্করা, ওষুধ ও খাদ্য পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে।
ডায়াবেটিস কোনো একটি খাবার খেলে ভালো হয়ে যায় না। সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
না। সাধারণত পুরোপুরি ভাত বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং ভাতের সঙ্গে বেশি সবজি ও প্রোটিন রাখুন।
হ্যাঁ। বেশিরভাগ মানুষ পরিমিত পরিমাণে কলা খেতে পারেন। তবে কলায় কার্বোহাইড্রেট থাকে, তাই পরিমাণ ও দিনের মোট কার্বোহাইড্রেটের হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।
খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। তাই খেতে চাইলে অল্প পরিমাণে এবং ব্যক্তিগত খাদ্য পরিকল্পনা অনুযায়ী খাওয়া উচিত।
মধুও রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। তাই চিনির বদলে মধু খেলেই এটি ডায়াবেটিসের জন্য নিরাপদ হয়ে যায়—এমন নয়। মধুও পরিমাণে সীমিত রাখতে হবে।
না। ডায়াবেটিস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়।
পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে, বিশেষ করে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে পরিবারের কারও ডায়াবেটিস থাকলেই যে অন্য সদস্যেরও হবে, তা নয়।
হাঁটা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই উপকারী। তবে সম্ভব হলে হাঁটার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত ২ দিন পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করাও ভালো।
না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না। ওষুধের কারণেই রক্তে শর্করা স্বাভাবিক থাকতে পারে। হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে শর্করা আবার বেড়ে যেতে পারে।
না। ইনসুলিন কিডনি নষ্ট করে না। বরং দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষতি করতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ইনসুলিনের ডোজ পরিবর্তন করতে পারেন।
কিছু রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ ও সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী রোজা রাখতে পারেন। তবে ইনসুলিন ব্যবহার, বারবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া, গর্ভাবস্থা, কিডনি রোগ বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে রোজার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
না। সুগার-ফ্রি খাবারেও কার্বোহাইড্রেট, ক্যালরি বা চর্বি থাকতে পারে। তাই খাবারের লেবেলে মোট কার্বোহাইড্রেট ও পরিবেশনের পরিমাণ দেখে খাওয়া উচিত।
প্রাথমিকভাবে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বা ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শও প্রয়োজন হতে পারে।
কত ঘন ঘন HbA1c পরীক্ষা করতে হবে, তা রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে। ওষুধ পরিবর্তন বা রক্তে শর্করা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ঘন ঘন পরীক্ষা লাগতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করুন।
রাতের হরমোনের পরিবর্তন, আগের রাতের খাবার, ওষুধের সময়, ঘুমের সমস্যা বা মানসিক চাপের কারণে সকালে শর্করা বেশি হতে পারে। কয়েক দিনের রক্তে শর্করার রেকর্ড চিকিৎসককে দেখালে কারণ বোঝা সহজ হয়।
অতিরিক্ত ওজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওজন কমানো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। তবে সবার জন্য একই পরিমাণ ওজন কমানোর লক্ষ্য প্রযোজ্য নয়।
হ্যাঁ। অনেকের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও অতিরিক্ত ওজন কমানোর মাধ্যমে রক্তে শর্করা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে। তবে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকায় নিয়মিত পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হবে।
অচেতন হওয়া, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা, বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ফলের মতো গন্ধযুক্ত শ্বাস হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। রক্তে শর্করা খুব বেশি থাকার সঙ্গে কিটোন থাকলেও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।