চারপাশে নিশ্চয়ই শীত আসছে টের পাচ্ছেন! তারসাথে ত্বকে যেন এখনই আলতো করে টান পড়তে শুরু করেছে। শীত পুরোপুরি জাঁকিয়ে বসার আগেই সচেতনতা আর সহজ কিছু অভ্যাস বদলে দিতে পারে পুরো চিত্রটা! শীতের শুষ্কতা থেকে ত্বককে রক্ষা করতে কী কী বিষয়ে খেয়াল রাখবেন, জেনে নিন সহজ কিছু উপায়।
শীতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় কেন?

শীতে ত্বক শুষ্ক হওয়ার মূল কারণ বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া। ঠান্ডা বাতাস গরম বাতাসের তুলনায় কম জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে। ফলে ঘরের ভেতরে ও বাইরে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। এই শুষ্ক বাতাস ধীরে ধীরে ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা টেনে নেয়। পাশাপাশি শীতকালে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা ‘সিবাম’ উৎপাদনও কমে যায়। এই তেল ত্বকের উপরিভাগে একটি প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে, যা ভেতরের পানি আটকে রাখতে সাহায্য করে। তেলের পরিমাণ কমে গেলে এই আবরণটি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ত্বক খুব সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে ওঠে।
শীতকালে ত্বকের সুরক্ষায় ১২টি টিপস
১. মুখ ধুতে বেছে নিন মৃদু ফেসওয়াশ
শীতে ফেসওয়াশ বা সাবান ত্বকের আর্দ্রতা আরও কমিয়ে দেয়। ফেসওয়াশ কেনার সময় বোতলের গায়ে 'Gentle', 'Hydrating' এবং 'Fragrance-free' (সুগন্ধিমুক্ত) লেখা দেখে কিনুন। দিনে দুইবারের বেশি মুখ ধোবেন না। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে সকালে শুধু পানির ঝাপসা দিন এবং রাতে ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।
আরও পড়ুনঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো? দেখুন সেরা ১০টি ময়েশ্চারাইজার
২. মুখ ধোয়ার ৩ মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার
শীতের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সবচেয়ে কাজের অভ্যাস এটাই। মুখ ধোয়া বা গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে পানি মুছুন। ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ৩ মিনিটের মধ্যে ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। এতে ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ভেতরেই আটকে (Lock) থাকে।
-
গ্লিসারিন ও হায়ালুরনিক অ্যাসিড: ত্বকের ওপরের স্তরে পানি ধরে রাখে।
-
সিরামাইড: ত্বকের সুরক্ষা স্তর বা ব্যারিয়ার মজবুত রাখে।
-
পেট্রোলাটাম: ত্বক থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়া কমায় (যেমন: ভ্যাসলিন)।
-
শি বাটার: ত্বক নরম ও মসৃণ রাখে।
আরও পড়ুনঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো? দেখুন সেরা ১০টি ময়েশ্চারাইজার
৩. গোসলের পানি হোক কুসুম গরম
কনকনে শীতে অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল করলে ত্বকের সুরক্ষাকবচ বা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি তেল ধুয়ে সাফ হয়ে যায়।
-
সবসময় হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ৫-১০ মিনিটের মধ্যে গোসল শেষ করুন।
-
পুরো শরীরে বারবার সাবান না ঘষে শুধু বগল ও ভাঁজযুক্ত ময়লা স্থানগুলো পরিষ্কার করুন।
-
গোসলের পর ভেজা ত্বকে সুতির তোয়ালে আলতো করে ছুঁইয়ে সাথে সাথে লোশন বা নারকেল তেল ব্যবহার করুন। (তবে সংবেদনশীল ত্বকে সরষের তেল এড়িয়ে চলাই ভালো।)
৪. শীতেও সানস্ক্রিন ভুলবেন না
শীতে রোদের তীব্রতা কম মনে হলেও ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি (UVA ও UVB) কিন্তু থেমে থাকে না।
-
UVA রশ্মি ত্বকে বলিরেখা ও অকাল বার্ধক্য আনে, আর UVB রোদপোড়ার কারণ।
-
বাইরে যাওয়ার আগে অন্তত SPF 30 এবং Broad-Spectrum সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর পুনরায় লাগান।
আরও পড়ুনঃ Top 10 Best Sunscreen in Bangladesh 2026: Picks by Skin Type
Confused by Endless Options? Here is the Ultimate Guide to Finding the Best Sunscreen for Oily Skin
৫. শরীরের জন্য চাই বডি লোশন
মুখের মতো হাত, পা, পিঠ আর পেটের ত্বকও শীতে শুকিয়ে যায়। অনেকের তখন চুলকানি হয়, গায়ে সাদা সাদা খসখসে দাগ পড়ে। এ জন্য মুখের ক্রিমে কাজ হবে না, শরীরের জন্য আলাদা বডি লোশন প্রয়োজন।
-
গোসলের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ৩ মিনিটের মধ্যে লোশন মেখে নিন।
-
হাঁটু, কনুই, হাত আর পায়ের পাতায় একটু বেশি করে লাগান, কারণ এই জায়গাগুলো সবার আগে শুকায়।
-
দিনে একবার যথেষ্ট না হলে রাতে ঘুমানোর আগে আবার লাগান।
আরও পড়ুনঃ Body Lotion: Our Top Picks for Winter
৬. হাত, পা আর গোড়ালির বাড়তি যত্ন
বারবার পানি ও সাবানের সংস্পর্শে আসায় এবং গোড়ালিতে শরীরের চাপ পড়ার কারণে শীতে হাত ও পায়ের চামড়া পুরু হয়ে ফাটতে শুরু করে।
-
হাত ধোয়ার পর প্রতিবার হ্যান্ড ক্রিম লাগান।
-
বাসন ধোয়া বা ঘর মোছার সময় গ্লাভস পরুন।
-
রাতে ঘুমানোর আগে পা ধুয়ে গোড়ালি ও পায়ে ঘন ক্রিম বা ভ্যাসলিন লাগান, তারপর সুতির মোজা পরে শুয়ে পড়ুন।
আরও পড়ুনঃ জানুন সেরা পা ফাটা দূর করার ক্রিম এর নাম
৭. ঠোঁটের জন্য আর্দ্রতার সুরক্ষা
ঠোঁটের ত্বক অনেক পাতলা এবং এতে তেল তৈরির গ্রন্থি থাকে না, তাই শীতে ঠোঁট খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়।
-
দিনে ও রাতে সুগন্ধিমুক্ত লিপবাম বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন।
-
মেন্থল বা কপূরযুক্ত লিপবাম এড়িয়ে চলুন। এগুলো সাময়িক আরাম দিলেও পরে ঠোঁট আরও শুকিয়ে দেয়।
-
ঠোঁট শুকনো লাগলে জিভ দিয়ে ভেজাবেন না বা চামড়া টানবেন না। লালা শুকিয়ে গেলে ঠোঁট আরও বেশি ফেটে যায়।
৮. শীতে চুলের সঠিক যত্ন
শীতে মাথার ত্বক ও চুল শুকিয়ে যায়, ফলে খুশকি বাড়ে এবং চুল সহজে ভেঙে যায়।
-
কুসুম গরম পানি: অতিরিক্ত গরম পানি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে, তাই হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুন।
-
মৃদু শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার: কড়া উপাদান ছাড়া মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন এবং শ্যাম্পু শেষে চলের আগা থেকে মাঝ পর্যন্ত কন্ডিশনার লাগান।
-
সপ্তাহে একবার তেল মালিশ: হালকা গরম নারকেল তেল মাথার ত্বকে মালিশ করে ১ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। রাতে তেল রেখে দিলে খুশকি বা ব্রণ বাড়তে পারে।
-
ড্রায়ার ব্যবহারে সতর্কতা: ড্রায়ার ব্যবহার করলে কম তাপে এবং কিছুটা দূর থেকে চালান। ২-৩ মাস পরপর চুলের আগা ছাঁটলে ফেটে যাওয়া রোধ হয়।
আরও পড়ুনঃ সালফেট ফ্রি শ্যাম্পু: যে শ্যাম্পুগুলো আপনার কেনা উচিত
কেন কন্ডিশনার এত জরুরি? জানুন এর পেছনের বিজ্ঞান ও কন্ডিশনার ব্যবহারের নিয়ম
৯. পানি পান করুন ও সুষম খাবার খান
শীতে তৃষ্ণা কম লাগে বলে পানি খাওয়া কমে যায়। তাই তৃষ্ণা না পেলেও সারা দিনে নিয়ম করে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। খাবারের তালিকায় আমলকী, পেয়ারা, কমলা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ডিম, ডাল, বাদাম ও শীতকালীন শাকসবজি রাখুন। এগুলোর প্রোটিন ও ভিটামিন ত্বক মেরামতে সাহায্য করে।
১০. নিজের ত্বকের ধরণ বুঝে পণ্য নির্বাচন
অন্যের দেখে পণ্য না কিনে নিজের ত্বকের ধরণ বুঝে সঠিক পণ্য বাছুন:
-
শুষ্ক ত্বক: সিরামাইড, গ্লিসারিন ও পেট্রোলিয়াম যুক্ত ঘন ক্রিম।
-
তৈলাক্ত/ব্রণপ্রবণ ত্বক: হালকা, তেলহীন ও 'Non-comedogenic' (যা লোমকূপ বন্ধ করে না) জেল বা লোশন।
-
সংবেদনশীল ত্বক: সুগন্ধিমুক্ত ও অ্যালকোহলমুক্ত কোমল পণ্য।
১১. স্ক্রাব ও এক্সফোলিয়েশনে বিরতি
শীতে ত্বক এমনিতেই নাজুক থাকে। এ সময়ে শক্ত দানাদার স্ক্রাব ব্যবহার করলে স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে বা জ্বলতে পারে। আপনি যদি AHA, BHA বা রেটিনলের মতো উপাদান ব্যবহার করেন, শীতে ত্বকের সহ্যক্ষমতা দেখে ব্যবহার কমিয়ে দিন। ত্বক জ্বালাপোড়া করলে ব্যবহার বন্ধ রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১২. ঘরের বাতাস ও পোশাকের দিকে খেয়াল রাখুন
ঠান্ডা বাতাস ছাড়াও ফ্যান বা এসির বাতাস ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ঘুমানোর সময় সরাসরি গায়ে বাতাস লাগানো এড়িয়ে চলুন।
শেষ কথা
শীতের ত্বকের জন্য দামি কিছুর দরকার নেই। মৃদু ফেসওয়াশ, কুসুম গরম পানি, ঠিক সময়ে ময়েশ্চারাইজার আর সানস্ক্রিন, এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই শীতের শুষ্কতা অনেকটা সামলে দেয়। নিজের ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিন, আর নিয়মিত মেনে চলুন। তাহলে শীতেও ত্বক থাকবে নরম, মসৃণ আর সতেজ। তবে নিয়মিত যত্নের পরও যদি ত্বক ফেটে রক্ত পড়ে, চুলকানি থামতে না চায়, বা ত্বকে লালচে আঁশযুক্ত দাগ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
FAQ
১. সকালে মুখ তৈলাক্ত অথচ টানটান কেন লাগে?
এটি ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ। শীতে রাতে ত্বকের পানি বাষ্প হয়ে গেলে ঘাটতি মেটাতে শরীর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত তেল তৈরি করে।
২. ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বক জ্বালা করে কেন?
আপনার স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত। ত্বকের সূক্ষ্ম ফাটল দিয়ে ক্রিমের উপাদান ভেতরে ঢোকায় স্নায়ু সংবেদনশীল হয়ে জ্বালাপোড়া করে।
৩. গোসলের পর পরই ঠোঁটে টান ধরে কেন?
গোসলে ঠোঁটের মরা চামড়া ফুলে ওঠে এবং তোয়ালে দিয়ে মোছার পর তা দ্রুত শুকিয়ে সংকুচিত হয়ে টান ধরে। গোসল শেষেই লিপবাম লাগানো উচিত।
৪. শীতে সানস্ক্রিন লাগালে মুখ কালচে দেখায় কেন?
শুষ্ক ত্বকের ভাঁজে সানস্ক্রিন আটকে যায় এবং আর্দ্রতার অভাবে দ্রুত অক্সিডাইজ হয়ে কালো লাগে। সানস্ক্রিনের ৫-১০ মিনিট আগে ময়েশ্চারাইজার মাখুন।
৫. লিপবাম মেখেও ঠোঁট বারবার শুকায় কেন?
লিপবামে মেন্থল, কপূর বা অতিরিক্ত সুগন্ধি থাকলে ঠোঁট আরও শুকায়। এছাড়া শুকনো ঠোঁটে লিপবাম মাখলে ভেতরের শুষ্কতা দূর হয় না।
৬. উলের কাপড়ে ঘাড়ে-হাতে লাল গুটি বা র্যাশ হয় কেন?
উলের খসখসে আঁশ শুষ্ক ত্বকে ঘষা খেলে মেকানিক্যাল ইরিটেশন হয়। সমাধান: উলের পোশাকের নিচে পাতলা সুতির গেঞ্জি পরা।
৭. শুধু ক্রিম মেখে শুষ্কতা আটকানো সম্ভব?
সম্ভব নয়। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের পানি বাষ্প হওয়া আটকায়। শরীরে ভেতর থেকে পানি না থাকলে ময়েশ্চারাইজার কাজ করতে পারে না।
৮. রাতে ঘুমানোর পর ত্বক বেশি শুষ্ক লাগে কেন?
রাতে শরীরের তাপমাত্রা ও পিএইচ পরিবর্তনের কারণে ত্বক থেকে সবচেয়ে দ্রুত পানি বাষ্প হয়ে যায়।
৯. শীতে মুখে ব্রণ বা অ্যাকনে বাড়ে কেন?
শুষ্ক বাতাস থেকে বাঁচতে শরীর অতিরিক্ত সিবাম ক্ষরণ করে এবং একই সাথে মরা চামড়া লোমকূপ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ব্রণ হয়।
১০. হালকা গরম পানিতে গোসল করলেও ত্বক শুকায় কেন?
পানি নিজেই একটি দ্রাবক। যেকোনো পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল করলে ত্বকের সুরক্ষাকারী প্রাকৃতিক চর্বির স্তর গলে নরম হয়ে ধুয়ে যায়।
১১. ঘরে এসি বা হিটার না চালালেও বাতাস শুষ্ক লাগে কেন?
ঠান্ডা বাতাসে প্রাকৃতিকভাবেই জলীয় বাষ্প ধরে রাখার ক্ষমতা কম থাকে, তাই ফ্যান/হিটার ছাড়াও বাতাস ত্বক থেকে আর্দ্রতা টেনে নেয়।
১২. শীতে নাকের চারপাশ ও ভুরুর নিচে চামড়া ওঠে কেন?
এটি শুষ্কতা এবং সেবোরিক ডার্মাটাইটিস (এক ধরনের ছত্রাকজনিত প্রদাহ)-এর কারণে হয়, যা শীতে সিবাম কমে গেলে বেড়ে যায়।
১৩. ভারী ক্রিম মাখলে মুখে ছোট ছোট সাদা গুটি (Milia) হয় কেন?
অতিরিক্ত ভারী বা পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক ক্রিম লোমকূপ বন্ধ করে কেরাটিন আটকে ফেলে, যার ফলে ত্বকের নিচে মিলিও বা সাদা গুটি তৈরি হয়।
১৪. বাইরে থেকে ঘরে এলে মুখ লাল ও গরম হয়ে ওঠে কেন?
বাইরের কনকনে ঠান্ডা থেকে হঠাৎ ঘরের উষ্ণ পরিবেশে এলে সংকুচিত রক্তনালীগুলো হঠাৎ প্রসারণ লাভ করে, ফলে মুখ লাল দেখায়।
১৫. ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার না মাখলে কী ক্ষতি?
শুকনো ত্বকে ময়েশ্চারাইজার মাখলে তা কেবল ওপরে বসে থাকে। হালকা ভেজা ত্বকে মাখলে পানি ত্বকের ভেতরে সিল (Seal) বা আটকে যায়।
১৬. সানগ্লাস পরলেও শীতে চোখের চারপাশ শুষ্ক হয়ে ডার্ক সার্কেল বাড়ে কেন?
চোখের চারপাশের ত্বক সবচেয়ে পাতলা। শীতে আর্দ্রতাহীনতার কারণে এই অংশে সূক্ষ্ম বলিরেখা ফুটে ওঠে ও কালচে দেখায়।
১৭. বারবার হাত ধুলে হাতের ত্বক পুরু ও খসখসে হয় কেন?
সাবান ও পানি ত্বকের ফ্যাট স্তর ধুয়ে ফেলে। ত্বক নিজেকে বাঁচাতে ওপরের চামড়াকে অতিরিক্ত পুরু ও শক্ত (Hyperkeratosis) করে তোলে।
১৮. শীতে মেকআপের পর স্কিন গুঁড়ো গুঁড়ো লাগে কেন?
ত্বকের উপরিভাগে মরা কোষ জমে থাকে এবং আর্দ্রতা কম থাকে। ফলে মেকআপ সমানভাবে না বসে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে উঠে আসে।
১৯. সুতির কাপড়েও শীতে ত্বক চুলকায় কেন?
শরীরে আর্দ্রতার চরম ঘাটতি থাকলে শুধু কাপড়ের সামান্য ঘর্ষণেও ত্বকের সংবেদনশীল স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে চুলকানি (Winter Itch) তৈরি করে।
২০. ঠোঁটের চামড়া টান দিয়ে তুললে ক্ষত শুকাতে দেরি হয় কেন?
ঠোঁটে নিজস্ব তেলের গ্রন্থি নেই এবং এর পুনর্গঠন ক্ষমতা কম। টান দিলে ত্বকের গভীর স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বারবার ফেটে যায়।