মেথির উপকারিতা: পুষ্টিগুণ, খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও ঝুঁকি
August 31, 2026
August 31, 2026
মেথি আমাদের রান্নাঘরের খুব পরিচিত একটি মসলা। ছোট্ট এই তেতো বীজটি পাঁচফোড়নের অন্যতম উপাদান। ডাল, তরকারি থেকে শুরু করে নানা পদে মেথি খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায়। তবে মেথির ব্যবহার শুধু রান্নাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ উপাদান হিসেবে মেথির বীজ ও শাকের ব্যবহার হয়ে আসছে। আজও মেথি নিয়ে নানা স্বাস্থ্যগুণের কথা শোনা যায়। তবে এর কোন উপকারের পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে, আর কোনটি শুধু প্রচলিত ধারণা—তা জানা জরুরি।
প্রায় ১ টেবিল চামচ বা ১১ গ্রাম মেথির বীজে থাকে প্রায় ৩৫ ক্যালরি। এই অল্প পরিমাণেই পাওয়া যায়—
আঁশ: ৩ গ্রাম
প্রোটিন: ৩ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট: ৬ গ্রাম
ফ্যাট: ১ গ্রাম
আয়রন: ৩.৭২ মিলিগ্রাম, যা দৈনিক চাহিদার প্রায় ২১ শতাংশ
ম্যাঙ্গানিজ: ০.১৩৭ মিলিগ্রাম, যা দৈনিক চাহিদার প্রায় ৬ শতাংশ
ম্যাগনেশিয়াম: ২১.২ মিলিগ্রাম, যা দৈনিক চাহিদার প্রায় ৫ শতাংশ
অল্প একটু মেথি থেকেই প্রোটিন ও ফাইবারের পাশাপাশি মিলছে দিনের চাহিদার পাঁচ ভাগের এক ভাগ আয়রন। বিশেষ করে নিয়মিত খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ মেথি যোগ করলে খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টি উপাদান যুক্ত হয়।
ডায়াবেটিস ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে মেথির ব্যবহার বেশ প্রচলিত। মেথি বীজে থাকা আঁশ (ফাইবার) এবং বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড অন্ত্রে শর্করা শোষণের গতি ধীর করে দেয়। এতে থাকা কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড ইনসুলিনের কার্যকারিতাও বাড়াতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ গ্রাম মেথি বীজ নিয়মিত খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ফাস্টিং সুগার এবং এইচবিএ১সি (HbA1c) এর মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে কমে আসে।
হজমে সাহায্য ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে পারে
মেথির অন্যতম বড় গুণ হলো এর ফাইবার। সাথে আছে প্রচুর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। এরা পেটের বর্জ্য বের হতে সাহায্য করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। এছাড়া ঠান্ডা পানি কিংবা মধুর সঙ্গে মেথি গুঁড়ো খেলে গলাব্যথা ও অ্যাসিডিটির অস্বস্তি সাময়িকভাবে কমিয়ে বেশ আরাম দেয়।
কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস
মেথিতে থাকা ‘স্যাপোনিন’ নামের একটি যৌগ এবং দ্রবণীয় ফাইবার শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি পরোক্ষভাবে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে এবং হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
ওজন কমাতে সকালের ভেজানো মেথি পানির ওপর অনেকেই ভরসা রাখেন। মেথির উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ উপাদান পেট দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এতে বারবার নাস্তা বা অতিরিক্ত ক্যালরি খাওয়ার প্রবণতা কমে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ করে।
মাতৃদুগ্ধ বৃদ্ধি
নতুন মায়েদের বুকের দুধের প্রবাহ বাড়াতে মেথির ব্যবহার বেশ পুরনো। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মেথির চা পান করা মায়েদের দুধের উৎপাদন তুলনামূলক বৃদ্ধি পায়, যা শিশুর ওজন বাড়াতেও সাহায্য করে। তবে এর প্রভাব একেক জনের শরীরে একেক রকম হতে পারে।
পিরিয়ডের ব্যথা ও হরমোনের ভারসাম্য
মাসিকের সময়কার তীব্র তলপেটের ব্যথা বা ক্র্যাম্প কমাতে মেথি দারুণ কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাসিকের সময় মেথির নির্যাস বা বীজ খেলে ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসে। এছাড়া মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের হঠাৎ শরীরে উত্তাপ লাগা বা ‘হট ফ্ল্যাশ’-এর মতো অস্বস্তি নিয়ন্ত্রণে মেথির কিছু সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
ত্বকের সুরক্ষা ও যত্ন
ত্বকের যত্নে বা বিভিন্ন প্রসাধনীতে মেথির নির্যাস বহুল ব্যবহৃত। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে মেথির পানি পান করলেই ব্রণ বা পেটের দাগ রাতারাতি উধাও হয়ে যাবে—এমন ভাবার চিকিৎস বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। এটি ত্বককে সতেজ রাখতে কিছুটা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে ত্বকের রোগের স্থায়ী সমাধান নয়।
চুলের যত্নে মেথির ব্যবহার শতাব্দী প্রাচীন। মেথিতে থাকা বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদান চুলের ভেতরে পুষ্টি জোগাতে কাজ করে:
গোড়া মজবুত করে: মেথি বীজে প্রচুর প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৩) থাকে। এগুলো চুলের প্রধান ভিত্তি ‘কেরাটিন’ তৈরিতে সাহায্য করে, ফলে চুলের গোড়া আগের চেয়ে শক্ত হয়।
রুক্ষতা দূর করে: মেথির ‘লেসিথিন’ চুলে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা জোগায়। ফলে চুল তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও নরম ভাব ফিরে পায়।
খুশকি প্রতিরোধে: মেথির অ্যান্টি-ফাংগাল ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান মাথার ত্বকের সংক্রমণ ও প্রাকৃতি ফাঙ্গাস দূর করে খুশকি কমায়।
রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি: এতে থাকা আয়রন ও পটাশিয়াম স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বাড়ায়, যা চুলের ফোলিকল সতেজ রাখতে দারুণ কাজে দেয়।
রাতে মেথি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে বেটে পেস্ট বানিয়ে নিন। মাথার ত্বকে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফলের জন্য এতে সামান্য টকদই বা নারকেল তেল মেলাতে পারেন। নারকেল তেলে মেথি দানা ফুটিয়ে সেই তেলও ব্যবহার করা যায়। সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এটি ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
পুরুষদের স্বাস্থ্য ও হরমোন ভারসাম্যে মেথির ভূমিকা নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আগ্রহ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে টেস্টোস্টেরন হরমোন, যৌন সক্ষমতা এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব নিয়ে বেশ কিছু ছোট গবেষণাও হয়েছে। এ থেকে জানা যায়ঃ
টেস্টোস্টেরন ও যৌন স্বাস্থ্য: মেথিতে ‘স্যাপোনিন’ ও ‘ডায়োজেনিন’ নামক যৌগ থাকে, যা শরীরে হরমোনের মাত্রায় প্রভাব ফেলে। অস্ট্রেলিয়ায় করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ছয় সপ্তাহ নিয়মিত মেথির নির্যাস ব্যবহারে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কামোদ্দীপনা (লিবিডো) ও যৌন সক্ষমতা বাড়ে।
পেশিশক্তি ও স্ট্যামিনা বৃদ্ধি: মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় এটি শরীরে শক্তির সঠিক জোগানে ভূমিকা রাখে, যা পেশির শক্তি ও সহনশীলতা বাড়াতে সহায়ক।
হৃদযন্ত্র ও মেটাবলিক সুরক্ষা: যেসব পুরুষের মধ্যবয়সে ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ কোলেস্টেরল বা প্রি-ডায়াবেটিসের প্রবণতা দেখা যায়, তাদের জন্য মেথি বেশ উপকারী। এটি রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং পরোক্ষভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
মেথি খাওয়ার একটিমাত্র নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। রান্নায় মসলা হিসেবে, পানিতে ভিজিয়ে বা গুঁড়া করে—বিভিন্নভাবে এটি খাওয়া যায়। সবচেয়ে ভালো হলো অল্প পরিমাণে শুরু করা এবং শরীরের সহনশীলতা দেখা।
মেথি ভেজানো পানি: ১ চা-চামচ (প্রায় ৫ গ্রাম) মেথি দানা রাতে ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে পানিটি ছেঁকে পান করুন। চাইলে ভেজানো নরম দানাগুলো চিবিয়েও খেয়ে নিতে পারেন।
মেথি গুঁড়ো (পাউডার): মেথি দানা হালকা ভেজে বা না ভেজে গুঁড়ো করে সংরক্ষণ করুন। প্রতিদিন দিনে ½ থেকে ১ চা-চামচ পাউডার হালকা গরম পানি, দুধ কিংবা তরকারির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
মেথি চা: ১ কাপ পানিতে ১ চা-চামচ মেথি বীজ ৫-১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। হালকা ঠান্ডা হলে ছেঁকে পান করুন। তেতো ভাব কমাতে সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
অঙ্কুরিত মেথি: মেথি দানা ৮-১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সুতি ভেজা কাপড়ে ১-২ দিন বেঁধে রাখলে অঙ্কুর বের হয়। এটি সালাদ, স্যান্ডউইচ বা দইয়ের সাথে খেলে মেথির তেতো ভাব থাকে না এবং সহজে হজম হয়।
রান্নায় ব্যবহার: পাঁচফোড়ন হিসেবে ডাল, তরকারি, কিংবা মেথি পাতা দিয়ে রুটি ও পরোটা বানিয়ে খেলে খাবারের স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই বাড়ে।
নিরাপদ দৈনিক মাত্রা (Dosage)
| ব্যবহারের মাধ্যম | দৈনিক পরিমাণ |
| মেথি ভেজানো পানি | ১–২ চা-চামচ (৫–১০ গ্রাম) |
| মেথি পাউডার | ২–৫ গ্রাম |
| মেথি সাপ্লিমেন্ট / এক্সট্র্যাক্ট | ৫০০–১২০০ মিলিগ্রাম |
| মেথি চা | দিনে ১–২ কাপ |
| ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য | ৫–১০ গ্রাম (চিকিৎসকের পরামর্শে) |
পরামর্শ: কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা বা নিয়মিত ওষুধ সেবনরত থাকলে মেথি খাওয়া শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মেথিকে অনেকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ক্ষতিহীন একটি ভেষজ উপাদান মনে করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সত্য হলো—অন্য যেকোনো সক্রিয় উপাদানের মতো মেথিরও নিজস্ব কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে কিংবা সুনির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় এটি বিপদের কারণ হতে পারে।
হজমজনিত সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট
মেথিতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকে। সংবেদনশীল পেটে অতিরিক্ত মেথি পড়লে পেট ফাঁপা, গ্যাস, বদহজম বা ডায়রিয়া হতে পারে। এছাড়া যাদের হাঁপানি বা অ্যাজমা রয়েছে, মেথির প্রভাবে তাদের শ্বাসকষ্টের উপসর্গ কিংবা অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)
মেথি রক্তে চিনি বা গ্লুকোজের মাত্রা কমায়। ফলে যারা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন নিচ্ছেন, তারা অতিরিক্ত মেথি খেলে সুগার লেভেল অস্বাভাবিক নিচে নেমে যেতে পারে। হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা, হঠাৎ বিভ্রান্তি বা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মিষ্টি কিছু খেয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
গর্ভাবস্থা ও শিশুদের ঝুঁকি
গর্ভবতী নারীদের জন্য মেথি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মেথির বিশেষ উপাদান জরায়ু সংকুচিত করে তুলতে পারে, যা সময়ের আগে প্রসব বা গর্ভপাতের ঝুঁকি তৈরি করে। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব থাকায় শিশুদের ক্ষেত্রেও মেথি এড়িয়ে চলাই ভালো।
বাদামে অ্যালার্জি বা ক্রস-রিঅ্যাক্টিভিটি
মেথি হলো ডাল ও চীনাবাদামের সমগোত্রীয় একটি উদ্ভিদ। তাই যাদের চীনাবাদাম বা ছোলায় অ্যালার্জি রয়েছে, মেথি খেলে তাদেরও শরীরে চাকা চাকা র্যাশ, শিস দিয়ে শ্বাস নেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া বা বমি বমি ভাব হতে পারে।
ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া
মেথি রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ (যেমন: ওয়ারফারিন), ডায়াবেটিসের ওষুধ কিংবা রক্তচাপের ওষুধের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ওষুধ ও মেথি একসঙ্গে চললে রক্তচাপ বা ব্লাড সুগার অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যেতে পারে।
শরীরে একধরনের দুর্গন্ধ
দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত মেথি সেবন করলে ঘাম ও প্রস্রাবে মেথির মতো কিছুটা ঝাঁঝালো বা মিষ্টি গন্ধ তৈরি হতে পারে।
গর্ভবতী মহিলা।
যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান (চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া)।
যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান।
থাইরয়েডের রোগী।
যাদের মেথি বা বাদামে অ্যালার্জি আছে।
যাদের হরমোন-সেনসিটিভ ক্যান্সার আছে।
যাদের শল্যচিকিৎসা (সার্জারি) হতে যাচ্ছে।
মেথির নানা সতর্কতা দেখে ভয় পাওয়ার একদম দরকার নেই! নিয়ম জেনে আর পরিমিতভাবে খেলে সামান্য এই মেথিই আপনার দৈনন্দিন স্বাস্থ্যের দারুণ এক সঙ্গী হতে পারে। তবে মেথিকে কোনো অলৌকিক সমাধান বা জাদুকরী ওষুধ না ভেবে, একটি সুস্থ জীবনধারা ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের সাধারণ অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
গ্যাস্ট্রিকের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম কী?
মেথি গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির স্থায়ী চিকিৎসা নয়। রান্নার সঙ্গে অল্প মেথি খাওয়া যেতে পারে। তবে খালি পেটে খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হলে খাবারের সঙ্গে বা পরে খাওয়াই ভালো।
মেথি পাউডার খাওয়ার উপকারিতা কী?
মেথি পাউডারে ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। এটি ডাল, তরকারি বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। তবে বেশি পরিমাণে খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
কতদিন মেথি খাওয়া যায়?
রান্নায় অল্প পরিমাণ মেথি দীর্ঘদিন খাওয়া সাধারণত সমস্যা তৈরি করে না। তবে প্রতিদিন বেশি পরিমাণে মেথি বা মেথির সাপ্লিমেন্ট কতদিন খাবেন, তা নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য ও ব্যবহৃত ওষুধের ওপর।
মেথি খাওয়ার পর পানি খাওয়া যাবে কি?
হ্যাঁ, মেথি খাওয়ার পর পানি পান করা যায়। মেথিতে ফাইবার থাকায় পর্যাপ্ত পানি পান করলে হজমে আরাম হতে পারে।
মেথি খালি পেটে নাকি ভরা পেটে খাওয়া ভালো?
মেথি খালি পেটে খেতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। খালি পেটে খেলে অস্বস্তি বা এসিডিটি হলে খাবারের সঙ্গে বা পরে খেতে পারেন। ডায়াবেটিসের ওষুধ খেলে নিয়মিত বেশি মেথি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ওজন কমাতে মেথি কখন খাওয়া ভালো?
মেথি খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সেরা সময় নেই। এতে থাকা ফাইবার কিছুটা সময় পেট ভরা রাখতে পারে। তবে শুধু মেথি খেয়ে ওজন কমানো সম্ভব নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মেথি কি যৌন ইচ্ছা (লিবিডো) বাড়ায়?
কিছু ছোট গবেষণায় বিশেষ মেথির নির্যাস ব্যবহারে পুরুষদের যৌন ইচ্ছা ও যৌন সক্ষমতায় কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সাধারণ মেথি বীজ খেলেই একই ফল পাওয়া যাবে—এমন শক্ত প্রমাণ এখনও নেই।
মেথি কি খুশকি কমায়?
মেথির পেস্ট স্ক্যাল্পের শুষ্কতা বা চুলকানি সাময়িকভাবে কমাতে পারে। তবে খুশকি বারবার হলে বা বেশি হলে মেথির ওপর নির্ভর না করে খুশকির উপযোগী মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মেথি কি চুল ঘন করে?
মেথি চুলকে সাময়িকভাবে নরম ও মসৃণ করতে পারে। এতে চুল কিছুটা ঘন দেখাতেও পারে। তবে নতুন চুল গজানো বা বংশগত চুল পড়া বন্ধ করার ক্ষেত্রে মেথির কার্যকারিতার শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
শিশুদের মেথি খাওয়ানো কি নিরাপদ?
রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে মেথি থাকলে বড় শিশুরা তা খেতে পারে। তবে ছোট শিশুদের মেথি পানি, বেশি পরিমাণ মেথি বা মেথির সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার আগে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা কি মেথি খেতে পারবেন?
রান্নায় স্বাভাবিক পরিমাণে মেথি খাওয়া সাধারণত আলাদা সমস্যা তৈরি করে না। তবে মেথি রক্তচাপ কমাতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাই রক্তচাপের ওষুধের পাশাপাশি বেশি পরিমাণে মেথি বা সাপ্লিমেন্ট খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মেথি ভেজানো পানি কি প্রতিদিন খাওয়া ভালো?
মেথি ভেজানো পানি খাওয়ার নির্দিষ্ট দৈনিক পরিমাণ বা সবার জন্য প্রয়োজনীয়তা প্রমাণিত নয়। খেলে অল্প পরিমাণে শুরু করুন এবং গ্যাস, পেট ব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হলে বন্ধ করুন।
গর্ভাবস্থায় মেথি খাওয়া যাবে?
রান্নায় মসলা হিসেবে অল্প পরিমাণ মেথি খাওয়া আর বেশি মাত্রায় মেথি বা মেথির সাপ্লিমেন্ট নেওয়া এক বিষয় নয়। গর্ভাবস্থায় মেথি পানি, বেশি পরিমাণ মেথি বা ঔষধি হিসেবে মেথি ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।