কিডনি রোগের লক্ষণঃ জানুন কখন সতর্ক হবেন
August 10, 2026
August 10, 2026
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন চোখের নিচে একটু ফোলা ভাব। ইদানীং সারাদিন শরীরটাও বেশ ক্লান্ত লাগছে। প্রস্রাবের রঙেও হয়তো কিছুটা তারতম্য খেয়াল করছেন। এমন হলে আমরা অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যাই। ভাবি—ঘুম কম হয়েছে, পানি কম খাওয়া হয়েছে, কিংবা একটু গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। এগুলো হতে পারে কিডনি রোগের লক্ষণ।
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সঠিক সচেতনতার অভাবে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ অকালেই কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই সময় থাকতেই লক্ষণগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি—আসুন জেনে নিই ঠিক কোন কোন উপসর্গ দেখলে আপনার সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
কিডনি রোগকে চিকিৎসকরা ‘নীরব ঘাতক’ বলে থাকেন। এর বড় কারণ হলো, কিডনির কার্যক্ষমতা প্রায় ৭০ শতাংশ নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো যন্ত্রণা বা জটিলতা প্রকাশ পায় না। অথচ প্রাথমিক পর্যায় থেকেই প্রস্রাবের অভ্যাসে তারতম্য, শরীরে অতিরিক্ত তরল জমা, ঘন ঘন ক্লান্তি এবং খাবারে অরুচির মতো উপসর্গগুলো দেখা দিতে থাকে।
প্রতিদিন আমাদের রক্ত পরিশোধন করে বর্জ্য আর অতিরিক্ত পানি প্রস্রাব হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয় কিডনি। তাই ফিল্টারিং প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিলে সবচেয়ে আগে প্রভাব পড়ে প্রস্রাবের অভ্যাস ও ধরনে।
কিডনির সমস্যায় সচরাচর যেসব পরিবর্তন দেখা যায়—
পরিমাণে তারতম্য: পর্যাপ্ত পানি পান করা সত্ত্বেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বা একদমই কম প্রস্রাব হওয়া।
রাতের ঘুমে ব্যাঘাত: রাতে টানা না ঘুমাতে পারা এবং বারবার প্রস্রাবের চাপে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
ফেনাযুক্ত: দীর্ঘদিন ধরে প্রস্রাব বেশি ফেনাযুক্ত হওয়া।
রঙে স্পষ্ট বদল: স্বাভাবিকের চেয়ে প্রস্রাব হলদে, বাদামি বা লালচে হয়ে যাওয়া।
প্রস্রাবে রক্ত বা ব্যথা: প্রস্রাবের সাথে রক্তের ছোপ দেখা দেওয়া কিংবা প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথা হওয়া।
অসম্পূর্ণতার অনুভূতি: প্রস্রাব করার পরও মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অস্বস্তি থেকে যাওয়া।
তবে যেকোনো পরিবর্তনই কিডনি রোগের লক্ষণ নয়। যেমন, বেশি পানি পান করলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে। আবার পানিশূন্যতায় প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হতে পারে। অনেক সময় সাধারণ মূত্রনালীর ইনফেকশন, ডিহাইড্রেশন বা কিডনি স্টোনের কারণেও এমনটা হতে পারে।
কিডনির একটা বড় কাজ হলো শরীরে পানি আর সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখা। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে অতিরিক্ত পানি ও সোডিয়াম শরীর থেকে বের হতে না পেরে রক্তনালির বাইরে টিস্যুতে জমতে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় ইডিমা (Edema)।
এই ফোলাভাব দৈনন্দিন কিছু ছোট পরিবর্তন থেকেই বোঝা যেতে পারে। যেমন—
পর্যাপ্ত ঘুম বা বিশ্রামের পরও যদি সারাদিন শরীর ভারী লাগে, অল্প কাজেই শক্তি ফুরিয়ে যায় কিংবা মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।
কিডনি এরিথ্রোপয়েটিন (Erythropoietin) নামে একটি হরমোন তৈরি করে। এই হরমোনটি হাড়ের ভেতরে থাকা মজ্জাকে নতুন লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells) তৈরির নির্দেশ দেয়। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই হরমোন তৈরি কমে যায়, ফলে শরীরে পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হতে পারে না। চিকিৎসার ভাষায় একে বলা হয় অ্যানিমিয়া (Anemia) বা রক্তস্বল্পতা।
যার ফলে শরীরে নিচের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে—
অনবরত ক্লান্তি: যথেষ্ট বিশ্রাম কিংবা ভালো খাবার খাওয়ার পরও সারাদিন শরীরে শক্তির তীব্র অভাববোধ করা।
সহজেই হাঁপিয়ে ওঠা: সামান্য হাঁটাচলা কিংবা ঘরের হালকা কাজেই বুক ধড়ফড় করা এবং নিঃশ্বাস ছোট হয়ে আসা।
মনোযোগের ঘাটতি: কাজে বা পড়াশোনায় মন বসাতে না পারা, হুটহাট মাথা ঝিমঝিম করা কিংবা টুকটাক বিষয় ভুলে যাওয়া।
ফ্যাকাশে ভাব ও ঠান্ডা অনুভূতি: ত্বক ও চোখের ভেতরের অংশ স্বাভাবিক রক্তিমাভ ভাব হারিয়ে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া এবং প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও হাত-পা অস্বাভাবিক ঠান্ডা থাকা।
যখন কিডনি রক্ত থেকে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মতো বিষাক্ত বর্জ্য ফিল্টার বা ছেঁকে বের করতে পারে না, তখন এই ক্ষতিকর উপাদানগুলো সরাসরি রক্তের প্রবাহে জমতে থাকে (ইউরেমিয়া)। রক্তে বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা বেড়ে গেলে তা আমাদের মস্তিষ্ক ও পরিপাকতন্ত্রকে সংকেত পাঠায়, ফলে প্রতিনিয়ত বমি বমি ভাব বা বমি হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
কিডনির কার্যক্ষমতা অনেকটা কমে গেলে যখন রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনসহ অন্যান্য বর্জ্য জমতে শুরু করে, তখন ইউরেমিয়ার কারণে আরও কিছু পরিপাকজনিত সমস্যা দেখা দেয়—
ক্ষুধা কমে যাওয়া: নিয়মিত খাবারের সময়েও খেতে ইচ্ছা না করা বা অল্প খেয়েই পেট ভরে গেছে মনে হওয়া।আগে যে খাবার পছন্দ ছিল, সেটিও আর ভালো নাও লাগতে পারে।
ওজন কমে যাওয়া: দীর্ঘদিন ঠিকমতো খেতে না পারলে শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও পুষ্টি পায় না। ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে পারে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
পাকস্থলীতে অস্বস্তি: অল্প কিছুটা খাবার খাওয়ার পরপরই পেট ভরা লাগা বা গা গুলিয়ে ওঠা।
কিডনি কেবল বর্জ্যই ছাঁকে না, রক্তে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ (মিনারেল) এবং বিভিন্ন বিপাকীয় (metabolic) উপাদানের নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে এই উপাদানগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা সরাসরি আমাদের ত্বকে প্রভাব ফেলে:
ফসফরাসের মাত্রা বেড়ে যাওয়া: কিডনি রক্ত থেকে ফসফরাস ঠিকমতো ছেঁকে বের করতে না পারলে তা রক্তে জমতে থাকে, যা চুলকানির একটা প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমা: ইউরিয়ার মতো বর্জ্য পদার্থ শরীরে জমলে ত্বকের স্নায়ু প্রান্তগুলোতে প্রভাব ফেলে চুলকানির সৃষ্টি করতে পারে।
তেল গ্রন্থি ও ঘাম গ্রন্থির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া: এতে ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।
ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ভারসাম্যহীনতা: এটাও ত্বকের সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে।
কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেলে শরীর থেকে বাড়তি পানি বের হতে পারে না। এই জমা তরল ফুসফুসের ভেতরে ও চারপাশে জমতে শুরু করলে তাকে বলে পালমোনারি এডিমা (Pulmonary Edema)। এতে ফুসফুস ঠিকমতো প্রসারিত হতে পারে না বলে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়। বিশেষ করে চিত হয়ে শুলে এই কষ্ট বাড়ে এবং সোজা হয়ে বসলে কিছুটা আরাম লাগে।
রাতের বেলায় হঠাৎ পায়ের পেশিতে বা উরুতে প্রচণ্ড টান পড়া ওঠার অভিজ্ঞতা হয়তো অনেকেরই আছে। তবে ঘন ঘন ও অহেতুক পেশিতে টান পড়া বা ব্যথাদায়ক ক্র্যাম্প কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে। আমাদের রক্তে প্রয়োজনীয় সব ইলেক্ট্রোলাইট—যেমন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে কিডনি। কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে ফসফরাস বেড়ে ক্যালসিয়াম কমে যায় কিংবা পটাশিয়ামের মাত্রায় গোলমাল দেখা দেয়। এই উপাদানগুলোর অসামঞ্জস্যের কারণে পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়, যার ফলে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় কিংবা দিনে হঠাৎ হাত-পায়ের পেশিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ব্যথাদায়ক ক্র্যাম্প বা তীব্র টান ধরে।
অকারণে ঘন ঘন মাথাব্যথা করা, বিশেষ করে মাথার পেছনের দিকে বা চারপাশে ভারি চাপ ধরে থাকার অনুভূতি—গ্যাস্ট্রিক, মাইগ্রেন বা কাজের মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই অনুচিত। যখন কিডনি ঠিকমতো কাজ করে না, তখন শরীরে তরল ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে রক্তচাপ বেড়ে যায়। এছাড়া কিডনি রোগে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমা, অ্যানিমিয়া (যার ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়), বা শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে।
কিডনি রোগে আক্রান্ত কিছু মানুষের চুল পড়া বাড়তে পারে। কিডনি রোগ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে শরীরের সামগ্রিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। ক্ষুধামন্দার কারণে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়া, রক্তস্বল্পতা, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার চাপ কিংবা কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রোটিন হারানোর মতো বিষয় চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ জমতে থাকে, যা লালার (saliva) মধ্যেও কিছুটা মিশে যেতে পারে। এর ফলে মুখে একধরনের ধাতব বা অস্বাভাবিক তেতো স্বাদ অনুভূত হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় dysgeusia। এই স্বাদ পরিবর্তনের কারণে মুখে ধাতব স্বাদ অনুভূত হয়, অনেক সময় প্রিয় খাবারও বিস্বাদ লাগে।
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে ত্বকের রঙে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ত্বক অনেক সময় ধূসরাভ, হলদেটে বা কালচে আভা নিতে পারে। কিডনির রক্ত পরিশোধনের ক্ষমতা কমে গেলে ইউরোক্রোম (Urochrome) নামের রঞ্জক পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে ঠিকমতো বের হতে না পেরে রক্তে জমতে শুরু করে। এর ফলে ত্বকে মাটির মতো ফ্যাকাশে-হলদে বা কালচে আভা দেখা দিতে পারে।
শুধুমাত্র বাহ্যিক লক্ষণ দেখে কিডনি কতটা ভালো কাজ করছে তা নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না, কারণ অনেক সময় বড় কোনো উপসর্গ ছাড়াই রোগটি ভেতরে ভেতরে এগোতে থাকে। তাই সঠিক অবস্থা নিশ্চিত হতে রক্ত ও প্রস্রাবের নিচের পরীক্ষাগুলো করা প্রয়োজন—
Serum Creatinine Test: রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দেখে কিডনি বর্জ্য ছেঁকে বের করতে কতটা সক্ষম, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
eGFR Test: কিডনি প্রতি মিনিটে আনুমানিক কতটা রক্ত ছাঁকতে পারছে, তার নিখুঁত হিসাব বোঝা যায়।
Urine Albumin/Protein Test: প্রস্রাবের সাথে অস্বাভাবিক কোনো প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।
Urinalysis: প্রস্রাবে রক্ত, প্রোটিন, ইনফেকশন বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপাদান আছে কি না, তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থা ও দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে অনেকেরই কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। যেমন—
ডায়াবেটিস থাকা: রক্তে অতিরিক্ত শর্করা দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির সূক্ষ্ম ফিল্টারগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ: অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ কিডনির সূক্ষ্ম রক্তনালিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া: হৃদযন্ত্র ও কিডনির কাজ একে অপরের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল, তাই হৃদরোগ থাকলে কিডনিও ঝুঁকিতে পড়ে।
পারিবারিক ইতিহাস থাকা: পরিবারের নিকটাত্মীয়ের (বাবা-মা বা ভাই-বোন) কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে।
পূর্বের কিডনি জটিলতা: আগে কখনো কিডনিতে সংক্রমণ, পাথর বা অন্য কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে।
বয়স বৃদ্ধি পাওয়া: বয়সের সাথে সাথে (বিশেষ করে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে) কিডনির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হ্রাস পেতে থাকে।
অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে যথেচ্ছ ব্যথানাশক (NSAIDs) বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা।
সাধারণ কোনো লক্ষণের জন্য অপেক্ষা না করে নিচের যেকোনো একটি জটিলতা দেখা দেওয়া মাত্রই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা মূল্যায়ন বা হাসপাতালে যাওয়া উচিত—
প্রস্রাবে লালচে ভাব বা স্পষ্ট রক্ত দেখা দিলে।
পর্যাপ্ত পানি পানের পরও হঠাৎ প্রস্রাবের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে।
মুখ, পা বা পুরো শরীরে খুব দ্রুত ফোলাভাব বাড়তে থাকলে।
হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বা সোজা হয়ে শুতে কষ্ট হলে।
বারবার বমি হওয়া এবং পেটে কোনো খাবার বা পানি না থাকা।
উচ্চ জ্বরের সাথে কোমরের পেছনের দিকে বা পাশে তীব্র ব্যথা অনুভব করা।
অস্বাভাবিক মানসিক বিভ্রান্তি, মাথা ঝিমঝিম করা বা শরীর মারাত্মক নিস্তেজ হয়ে পড়া।
আমাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনধারণে কিডনির ভূমিকা অত্যন্ত অপরিহার্য। সামান্য শারীরিক পরিবর্তন বা অস্বাভাবিকতাকে অবহেলা না করে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সচেতন হওয়া এবং লক্ষণভেদে সঠিক চিকিৎসাকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সুষম জীবনযাপন এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণই পারে কিডনিজনিত মারাত্মক ঝুঁকি প্রতিরোধ করে একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
হ্যাঁ। কিডনি রোগের শুরুর দিকে অনেকেরই স্পষ্ট কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই ঝুঁকি থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
সবসময় নয়। পানিশূন্যতা বা দ্রুত প্রস্রাবের কারণেও সাময়িক ফেনা হতে পারে। তবে ফেনা যদি নিয়মিত ও বেশি হয়, তাহলে প্রস্রাবে প্রোটিন আছে কি না পরীক্ষা করা ভালো।
সবসময় নয়। কম পানি খাওয়া, কিছু খাবার বা ওষুধেও রঙ বদলাতে পারে। তবে প্রস্রাব লাল বা চায়ের মতো বাদামি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
না। বেশিরভাগ কোমর ব্যথা পেশি বা মেরুদণ্ডের কারণে হয়। কিডনির ব্যথা সাধারণত পাঁজরের নিচে, পিঠের এক পাশে অনুভূত হতে পারে।
হ্যাঁ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন বা ঘন ঘন NSAID জাতীয় ব্যথানাশক ব্যবহার করলে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত পানি না খেলে পানিশূন্যতা, কিডনিতে পাথর বা মূত্রনালির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে সবার পানির প্রয়োজন এক নয়।
না। কিডনি পাথর হলো কিডনিতে বা মূত্রনালিতে পাথর তৈরি হওয়া। আর কিডনি ফেলিউর হলো কিডনির স্বাভাবিক কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।
হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে জটিলতা হতে পারে। তাই বারবার UTI হলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, লবণ কম খান, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন, ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
ওষুধ নিয়মিত নিন, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনি পরীক্ষা করান।
পানির প্রয়োজন বয়স, আবহাওয়া, কাজ ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। কিডনি বা হৃদ্রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করা উচিত।
কিডনির কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে গেলে এবং শরীরে বর্জ্য বা অতিরিক্ত তরল জমে জটিলতা তৈরি হলে চিকিৎসক ডায়ালিসিসের পরামর্শ দিতে পারেন।
না, সবার জন্য একই নিয়ম নয়। রোগের পর্যায় অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ ঠিক করা হয়। নিজের সিদ্ধান্তে ডাল বা প্রোটিন বন্ধ করা উচিত নয়।
অজানা উপাদান বা প্রমাণহীন ভেষজ ওষুধ কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ব্যবহার না করাই নিরাপদ।