ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ: WHO-র তথ্যসহ পূর্ণাঙ্গ গাইড
November 3, 2026
November 3, 2026
ডেঙ্গুকে "হাড়ভাঙা জ্বর"ও বলা হয়। সংক্রমিত স্ত্রী এডিস ইজিপ্টি মশার কামড়ে এটি মানুষের শরীরে ছড়ায়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এই রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে এখন আশেপাশে অনেকেরই জ্বর হচ্ছে। কারও ডেঙ্গু, কারও সাধারণ ভাইরাল জ্বর। কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন, চলুন জেনে নিই।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। যাদের লক্ষণ দেখা দেয়, তাদের অধিকাংশ এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে যান। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগ মারাত্মক হয়ে ওঠে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে তীব্র ডেঙ্গু প্রাণঘাতীও হতে পারে।
মশার কামড়ের ৪ থেকে ১০ দিন পর সাধারণত লক্ষণ শুরু হয় এবং ২ থেকে ৭ দিন থাকে।
হঠাৎ তীব্র জ্বর, যা ১০৪°F (৪০°C) পর্যন্ত উঠতে পারে
প্রচণ্ড মাথাব্যথা
চোখের পেছনে ব্যথা
পেশি ও জোড়ায় এত ব্যথা, যেন হাড় ভেঙে যাচ্ছে
বমি বমি ভাব ও বমি
গলা বা ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
ত্বকে লালচে র্যাশ বা দাগ
যারা দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, তাদের জটিলতার ঝুঁকি বেশি। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই লক্ষণগুলো সাধারণত জ্বর নেমে যাওয়ার পরই দেখা দেয়। তাই জ্বর ছেড়ে গেছে ভেবে নিশ্চিন্ত হবেন না। নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখলেই দেরি না করে হাসপাতালে যান:
তীব্র পেটব্যথা
একটানা বমি
দ্রুত শ্বাস নেওয়া
মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া
বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অস্থিরতা
অস্বাভাবিক পিপাসা
ত্বক ফ্যাকাশে ও ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়া
এখন আশেপাশে অনেকেরই জ্বর। কারও ডেঙ্গু, কারও সাধারণ ভাইরাল জ্বর। দুটোর শুরু প্রায় একই রকম। তবে কয়েকটা লক্ষণ দেখলে পার্থক্য আন্দাজ করা যায়।
|
লক্ষণ |
ডেঙ্গু |
ভাইরাল জ্বর |
|
জ্বর |
হঠাৎ অনেক বেশি, ১০৩–১০৪°F পর্যন্ত |
মাঝারি, ৯৯–১০২°F |
|
সর্দি, কাশি, গলাব্যথা |
সাধারণত থাকে না বা খুব কম |
প্রায়ই থাকে |
|
মাথাব্যথা |
তীব্র, চোখের পেছনেও ব্যথা |
হালকা থেকে মাঝারি |
|
শরীর ও হাড়ব্যথা |
প্রচণ্ড |
হালকা থেকে মাঝারি |
|
র্যাশ |
হতে পারে |
সাধারণত হয় না |
|
দুর্বলতা |
অনেক বেশি |
কম |
|
রক্তক্ষরণের ঝুঁকি |
আছে |
নেই |
১. মশার কামড়ের মাধ্যমে
ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত সংক্রমিত স্ত্রী এডিস ইজিপ্টি মশার কামড়ে ছড়ায়। মশা ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও রক্ত খেলে ভাইরাস তার পেটের ভেতরে বাড়তে থাকে, তারপর লালাগ্রন্থিতে পৌঁছায়। এরপর মশাটি আরেকজনকে কামড়ালে ভাইরাস তার শরীরে ঢুকে যায়। তবে ভাইরাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মশা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে না। ২৫–২৮°C তাপমাত্রায় এতে সাধারণত ৮–১২ দিন লাগে। এই সময়কে বলে এক্সট্রিনসিক ইনকিউবেশন পিরিয়ড (EIP)। তাপমাত্রা এবং ভাইরাসের ধরন ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে সময়টা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। একবার সংক্রমিত হলে মশাটি সারা জীবন ভাইরাস ছড়াতে পারে।
২. মানুষ থেকে মশায়
যার রক্তে ডেঙ্গু ভাইরাস আছে (একে ভাইরেমিয়া বলে), তার কাছ থেকে মশা সংক্রমিত হতে পারে। রোগীর লক্ষণ থাকুক, লক্ষণ শুরুর আগের অবস্থায় থাকুক বা কোনো লক্ষণই না থাকুক, তিন ক্ষেত্রেই এটা হতে পারে। সাধারণত লক্ষণ শুরুর ২ দিন আগে থেকে জ্বর সারার ২ দিন পর পর্যন্ত রোগীর শরীর থেকে মশায় ভাইরাস যেতে পারে। রক্তে ভাইরাস বেশি থাকলে এবং জ্বর তীব্র হলে ঝুঁকি বাড়ে। ভাইরাস রক্তে সাধারণত ৪–৫ দিন থাকে, কখনো ১২ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই ডেঙ্গু ধরা পড়লে জ্বর থাকা অবস্থায় এবং জ্বর সারার পরও কিছুদিন মশারির ভেতরে থাকুন। এতে পরিবার ও প্রতিবেশী সংক্রমণ থেকে বাঁচবে।
৩. গর্ভবতী মা থেকে সন্তানে
গর্ভবতী মা আক্রান্ত হলে গর্ভের সন্তানের শরীরেও ভাইরাস যেতে পারে। একে ভার্টিকাল ট্রান্সমিশন বলে। এর হার তুলনামূলক কম, তবে গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে সময়ের আগে প্রসব, কম ওজনের শিশুর জন্ম বা গর্ভস্থ শিশুর জটিলতার ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভবতী নারীরা বাড়তি সতর্ক থাকবেন, জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাবেন।
৪. অন্যান্য বিরল উপায়
খুব কম ক্ষেত্রে সংক্রমিত রক্ত বা রক্তজাত উপাদান গ্রহণ এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। এছাড়া সংক্রমিত স্ত্রী মশার ডিমের ভেতরেই ভাইরাস পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। একে ট্রান্সওভারিয়াল ট্রান্সমিশন বলে।
১. আগে একবার ডেঙ্গু হওয়া
ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি আলাদা ধরন (সেরোটাইপ) আছে। একবার ডেঙ্গু হলে সেই ধরনের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ তৈরি হয়, কিন্তু অন্য ধরনে আবার আক্রান্ত হওয়া সম্ভব। দ্বিতীয়বার হলে তীব্র ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়।
২. অপরিকল্পিত ও দ্রুত নগরায়ণ
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ঘনবসতি, মানুষের যাতায়াত আর নিরাপদ পানি সরবরাহের অভাবে মানুষ পানি জমিয়ে রাখতে বাধ্য হয়। এই জমা পানিই এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হয়ে ওঠে। তাই ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
৩. সচেতনতার অভাব ও অভ্যাস
ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের ধারণা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর ঝুঁকি অনেকটা নির্ভর করে। যেমন:
খোলা পাত্রে পানি জমিয়ে রাখা
ফুলের টব, ট্রে বা ফেলে দেওয়া পাত্রে পানি জমতে দেওয়া
মশার কামড় ঠেকাতে কিছু না করা
"আমার তো আর হবে না" ধরনের উদাসীনতা
৪. জলবায়ু পরিবর্তন ও মশার মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা
এডিস মশা নতুন পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বাড়ছে, আবার নগরায়ণও বাড়ছে। এই দুইয়ের প্রভাবে আগে যেসব অঞ্চলে ডেঙ্গু হতো না, সেখানেও এখন সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।
ঝুঁকির কারণগুলো জানার পর প্রতিরোধের উপায় বোঝা সহজ। এডিস মশা মূলত দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে মশারি টাঙালেই চলবে না, দিনেও সুরক্ষা দরকার।
মশার কামড় থেকে বাঁচার উপায়
শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢাকা থাকে, এমন পোশাক পরুন
দিনে ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে মশারিতে কীটনাশক স্প্রে করে নিন
জানালায় মশা-প্রতিরোধী নেট লাগান
ডিইইটি (DEET), পিকারিডিন (Picaridin) বা আইআর৩৫৩৫ (IR3535) যুক্ত মশা নিরোধক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন
প্রয়োজনে মশার কয়েল বা ভ্যাপোরাইজার ব্যবহার করুন
মশার বংশবৃদ্ধি ঠেকানোর উপায়
মশা মারার চেয়ে মশার জন্ম ঠেকানো বেশি কার্যকর। এডিস মশা জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই:
বাসার ভেতরে-বাইরে কোথাও পানি জমতে দেবেন না
ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের কৌটা-বোতল ঠিকমতো সরিয়ে ফেলুন
পানি জমানোর পাত্র সপ্তাহে অন্তত একবার খালি করে ঘষে পরিষ্কার করুন এবং ঢেকে রাখুন
যেখানে জমা পানি সরানো সম্ভব নয়, সেখানে উপযুক্ত কীটনাশক ব্যবহার করুন
NS1 অ্যান্টিজেন টেস্ট এ জ্বরের প্রথম ১–৫ দিনে করালে ভালো ফল পাওয়া যায়
ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি টেস্ট (IgM/IgG) জ্বরের ৫ম দিনের পর বেশি কার্যকর
CBC (প্লাটিলেট কাউন্টসহ) ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত করাতে হয়
সব সতর্কতার পরও ডেঙ্গু হয়ে গেলে ঘাবড়ে যাবেন না। নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন:
যথেষ্ট বিশ্রাম নিন
প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খান
জ্বর বা ব্যথা কমাতে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে
আইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিনের মতো প্রদাহনাশক ওষুধ এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়
মারাত্মক ডেঙ্গুর কোনো লক্ষণ দেখা দিচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখুন। দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যান
বর্তমানে কিছু দেশে কিউডেঙ্গা (Qdenga) নামের একটি ডেঙ্গু টিকা অনুমোদিত ও ব্যবহারযোগ্য। তবে এটি শুধু ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি, এমন এলাকায় ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য সুপারিশ করা হয়। আরও কয়েকটি টিকা এখনো পরীক্ষা বা মূল্যায়নের পর্যায়ে আছে।
Disclaimer: এই কন্টেন্টে প্রদানকৃত সকল স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রকাশনা থেকে সংগৃহীত এবং কেবল সাধারণ তথ্য প্রদান ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি।
ডেঙ্গু কি বাতাস বা স্পর্শের মাধ্যমে এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়ায়?
উত্তর: না। ডেঙ্গু কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। স্পর্শ, হাত মেলানো, হাঁচি-কাশি বা একই পাত্রে খাবার খেলে ডেঙ্গু ছড়ায় না। এটি কেবল সংক্রামিত মশার কামড়ের মাধ্যমেই ছড়ায়।
এডিস মশা দেখতে কেমন এবং চেনার উপায় কি?
উত্তর: এডিস মশা সাধারণত আকারে মাঝারি হয় এবং এদের কালো শরীরে ও পায়ে সাদা ডোরাকাটা বা ছোপ ছোপ দাগ থাকে (যা ডোরাকাটা বা চিতা বাঘের মতো দেখায়)।
এডিস মশা কখন এবং কোথায় সবচেয়ে বেশি কামড়ায়?
উত্তর: এডিস মশা মূলত দিনের বেলা কামড়ায়। বিশেষ করে সূর্যোদয়ের পর কয়েক ঘণ্টা (সকাল) এবং সূর্যাস্তের আগের কয়েক ঘণ্টা (বিকালে) এরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে পর্যাপ্ত কৃত্রিম আলো থাকলে রাতেও কামড়াতে পারে।
জীবনে কতবার ডেঙ্গু হতে পারে?
উত্তর: ডেঙ্গু ভাইরাসের মোট ৪টি ধরণ বা সেমোটাইপ (DENV-1, DENV-2, DENV-3, DENV-4) রয়েছে। তাই একজন মানুষ জীবনে সর্বোচ্চ ৪ বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন।
প্লাটিলেট কত নিচে নামলে চিন্তা বা হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়?
উত্তর: স্বাভাবিক মানুষের রক্তে প্লাটিলেট থাকে ১,৫০,০০০ থেকে ৪,০০,০০০। প্লাটিলেট ১ লাখের নিচে নামলে সতর্ক হতে হবে এবং ৫০ হাজারের নিচে নামলে বা রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত।
প্লাটিলেট কমলেই কি রক্ত বা প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে?
উত্তর: না, প্লাটিলেট কমলেই রক্ত দেওয়ার দরকার হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্লাটিলেট দেওয়া অনুচিত। শরীরে সক্রিয় রক্তক্ষরণ না থাকলে বা প্লাটিলেট অত্যন্ত নিচে (যেমন ১০-২০ হাজারের নিচে) না নামলে প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশনের প্রয়োজন হয় না।
ডেঙ্গু প্লাজমা লিকেজ (Plasma Leakage) কী?
উত্তর: ডেঙ্গুর তীব্র অবস্থায় রক্তনালী সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত হয়ে রক্তের জলীয় অংশ বা প্লাজমা বের হয়ে পেট বা ফুসফুসে জমে যায়। একে প্লাজমা লিকেজ বলে। এর ফলে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ মারাত্মক কমে যেতে পারে (Dengue Shock Syndrome)।
ডাবের পানি বা পেঁপে পাতার রস কি সত্যিই প্লাটিলেট বাড়ায়?
উত্তর: পেঁপে পাতার রস প্লাটিলেট বাড়াতে কিছুটা সাহায্য করে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, তবে এটি কোনো প্রমাণিত ওষুধ নয়। ডাবের পানি ইলেক্ট্রোলাইট ও ফ্লুইডের অভাব পূরণ করে রোগীকে হাইড্রেটেড রাখে, যা ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত জরুরি।
ডেঙ্গু রোগীকে প্রতিদিন কী পরিমাণ তরল খাওয়াতে হবে?
উত্তর: প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার তরল (পানি, ওআরএস স্যালাইন, ডাবের পানি, ডালের পানি, স্যুপ) দেওয়া উচিত। তবে হৃৎপিণ্ড বা কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের মেপে দেওয়া পরিমাণ অনুযায়ী তরল দিতে হবে।
ডেঙ্গু রোগীর খাদ্যতালিকায় কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত?
উত্তর: তেল-মসলাযুক্ত খাবার, ক্যাফেইন (চা-কফি), প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্স, শক্ত বা সহজে হজম হয় না এমন খাবার এবং লাল বা কালো রঙের খাবার (কারণ এগুলো খেলে বমি বা পায়খানার রক্ত সনাক্ত করা কঠিন হয়) এড়িয়ে চলা উচিত।
শিশুদের ডেঙ্গুর লক্ষণ কি প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে আলাদা হয়?
উত্তর: শিশুরা অনেক সময় ব্যথার কথা মুখে বলতে পারে না। তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কান্নাকাটি, নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দেওয়া, প্রচণ্ড বমি, ঝিমুনি ধরা, পেট ফুলে যাওয়া বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া মারাত্মক ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে মা ও শিশুর কী ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সন্তান প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্মানো এবং প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে। তাই গর্ভবতী মায়ের ডেঙ্গু হলে শুরুতেই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
পরিষ্কার পানিতে নাকি ময়লা পানিতে—এডিস মশা কোথায় ডিম পাড়ে?
উত্তর: এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে (যেমন: পাত্রে জমা পানি, ফুলের টব, ডাবের খোসা, এয়ার কন্ডিশনার বা ফ্রিজের ট্রে-র পানি) ডিম পাড়ে।
কতটুকু জমে থাকা পানি এডিস মশার ডিম পাড়ার জন্য যথেষ্ট?
উত্তর: খুব সামান্য পরিমাণ পানি (এমনকি একটি বোতলের ক্যাপে জমে থাকা ৫-১০ মিলি পানি)-তেও এডিস মশা ডিম পাড়তে পারে।
জমা পানিতে ব্লিচিং পাউডার বা কেরোসিন দিলে কি মশার লার্ভা মরে?
উত্তর: হ্যাঁ, যেসব পানি খাওয়া বা ব্যবহারের কাজে লাগে না, সেখানে সামান্য কেরোসিন, পোড়া মবিল বা ড্রেন পরিচ্ছন্নতার ব্লিচিং পাউডার দিলে পানির ওপর আস্তরণ তৈরি হয় এবং লার্ভা অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে কোন ধরণের মশানিরোধক (Repellent) সবচেয়ে কার্যকর?
উত্তর: ত্বকে ব্যবহারের জন্য DEET, Picaridin বা IR3535 উপাদানযুক্ত মশানিরোধক ক্রিম বা স্প্রে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনুমোদিত।